সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ইডি আধিকারিকদের মুখ খোলার অধিকার থাকলে হয়তো বলতেন, ‘তুমি মহারাজা সাধু হলে আজ, আমি আজ চোর বটে!’ এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ১০ বছর ধরে যতটা গর্জেছে, ততটা বর্ষায়নি কেন? নরেন্দ্র মোদির শাসনে এক দশক পেরনোর পর এই প্রশ্নেই এখন ক্ষোভ এবং অসন্তোষের বিস্ফোরণ ঘটেছে সরকারের অন্দরে। দেশজুড়ে হাজার হাজার মামলা রুজু করেছে ইডি। অসংখ্য গ্রেপ্তারি। কিন্তু সেই তুলনায় মামলার নিষ্পত্তি কোথায়? সাজার হারও যে নগণ্য। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রকের আধিকারিকদের পক্ষ থেকে ইডিকে প্রশ্ন করা হয়েছে, কনভিকশন রেট কত? কেন এত কম?
Advertisement
বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, যত সংখ্যক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে ইডি জেলে পাঠিয়েছে কিংবা মামলা শুরু করেছে, তার সিংহভাগই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এবং সবটাই বিজেপি তথা মোদি সরকারের নির্দেশে। বিরোধীদের কোণঠাসা করতে, ভয় দেখাতে এবং চাপে ফেলতে ১০ বছর ধরে চলছে এই প্রবণতা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মোদি সরকারের অধীন তদন্তকারী সংস্থাগুলি যত মামলা এবং গ্রেপ্তার করছে, সেগুলির অগ্রগতি একেবারেই ইতিবাচক নয়। একের পর এক রাজ্যে অভিযুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিরা দীর্ঘসময় জেলে কাটিয়ে অবশেষে মুক্তি পাচ্ছেন আদালতেরই নির্দেশে। দিল্লির মণীশ সিশোদিয়া থেকে তেলেঙ্গানার কবিতা কিংবা বাংলার অনুব্রত মণ্ডল। অতএব রাজনৈতিক প্রভুদের নির্দেশে একের পর এক মামলা সাজানোর পর আজ যদি ইডিকেই শুনতে হয় যে, কনভিকশন রেট এত কম কেন, তাহলে এজেন্সির পক্ষে হজম করা শক্ত।
সরকারি সূত্রের খবর, ২০১৪ সাল থেকে বিগত দশ বছরে বেআইনিভাবে অর্থ নয়ছয়ের মামলা (পিএমএলএ) রুজু করা হয়েছে ৫ হাজার ২৯৭টি। অথচ আদালতে মামলার শুনানি সমাপ্ত হয়েছে মাত্র ৪৩টির। সাজা হয়েছে ৪০টি মামলায়। বাকিগুলির বিচারপর্বই শুরু হয়নি। দশ বছরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে (আনল’ফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট) ৮ হাজার ৭১৯ মামলা রুজু করা হয়েছে। কিন্তু সাজা হয়েছে মাত্র ৭৮৯টি মামলায়। ৫৬৭ মামলার অভিযুক্তরা প্রমাণের অভাবে মুক্তি পেয়ে গিয়েছে। সবথেকে বেশি আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মামলা রুজু হয়েছে ২০২১ এবং ২০২২ সালে। এই দুই বছরে ২ হাজারের বেশি এরকম মামলা রুজু হয়। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবথেকে বেশি অর্থ পাচারের দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা রুজু করা হয়েছে দিল্লিতে—৯০টি। এরপরই মহারাষ্ট্র, ৪৩। তৃতীয় স্থানে বাংলা, ৪২টি। চতুর্থ স্থানে রাজস্থান, ২৪। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই সময়কালে উল্লিখিত রাজ্যগুলিতে সরকার কিন্তু বিজেপি বিরোধীদের।
শুধু দিল্লির উদাহরণ ধরলে দেখা যাচ্ছে, আবগারি দুর্নীতি মামলায় যতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, প্রায় সকলকেই সুপ্রিম কোর্ট জামিনে মুক্তি দিয়েছে। বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় বারংবার সুপ্রিম কোর্ট তদন্তকারী এজেন্সিগুলিকে ভর্ৎসনা করেছে। বলেছে, আপনারা জামিনের বিরোধিতা করেন, আবার নতুন কোনও তথ্য-প্রমাণও জমা দিতে পারেন না। এটা বরদাস্ত করা যায় না। একইভাবে বাংলার বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় দেখা গিয়েছে, সিবিআই কিংবা ইডি, যতটা শোরগোল গ্রেপ্তার করা নিয়ে হয়, সেই তুলনায় তদন্তের অগ্রগতি, চার্জ ফ্রেম, অথবা শুনানি শুরু করার প্রবণতা অনেক শ্লথ। সারদা থেকে সন্দেশখালি। এসএসসি থেকে আর জি কর। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাফল্য কোথায়?
সরকারি সূত্রের খবর, ২০১৪ সাল থেকে বিগত দশ বছরে বেআইনিভাবে অর্থ নয়ছয়ের মামলা (পিএমএলএ) রুজু করা হয়েছে ৫ হাজার ২৯৭টি। অথচ আদালতে মামলার শুনানি সমাপ্ত হয়েছে মাত্র ৪৩টির। সাজা হয়েছে ৪০টি মামলায়। বাকিগুলির বিচারপর্বই শুরু হয়নি। দশ বছরে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে (আনল’ফুল অ্যাক্টিভিটিজ প্রিভেনশন অ্যাক্ট) ৮ হাজার ৭১৯ মামলা রুজু করা হয়েছে। কিন্তু সাজা হয়েছে মাত্র ৭৮৯টি মামলায়। ৫৬৭ মামলার অভিযুক্তরা প্রমাণের অভাবে মুক্তি পেয়ে গিয়েছে। সবথেকে বেশি আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের মামলা রুজু হয়েছে ২০২১ এবং ২০২২ সালে। এই দুই বছরে ২ হাজারের বেশি এরকম মামলা রুজু হয়। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সবথেকে বেশি অর্থ পাচারের দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলা রুজু করা হয়েছে দিল্লিতে—৯০টি। এরপরই মহারাষ্ট্র, ৪৩। তৃতীয় স্থানে বাংলা, ৪২টি। চতুর্থ স্থানে রাজস্থান, ২৪। লক্ষণীয় বিষয় হল, এই সময়কালে উল্লিখিত রাজ্যগুলিতে সরকার কিন্তু বিজেপি বিরোধীদের।
শুধু দিল্লির উদাহরণ ধরলে দেখা যাচ্ছে, আবগারি দুর্নীতি মামলায় যতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, প্রায় সকলকেই সুপ্রিম কোর্ট জামিনে মুক্তি দিয়েছে। বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় বারংবার সুপ্রিম কোর্ট তদন্তকারী এজেন্সিগুলিকে ভর্ৎসনা করেছে। বলেছে, আপনারা জামিনের বিরোধিতা করেন, আবার নতুন কোনও তথ্য-প্রমাণও জমা দিতে পারেন না। এটা বরদাস্ত করা যায় না। একইভাবে বাংলার বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় দেখা গিয়েছে, সিবিআই কিংবা ইডি, যতটা শোরগোল গ্রেপ্তার করা নিয়ে হয়, সেই তুলনায় তদন্তের অগ্রগতি, চার্জ ফ্রেম, অথবা শুনানি শুরু করার প্রবণতা অনেক শ্লথ। সারদা থেকে সন্দেশখালি। এসএসসি থেকে আর জি কর। কেন্দ্রীয় এজেন্সির সাফল্য কোথায়?



