


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: শাসনে শিশুকন্যা বিক্রি কাণ্ডে নয়া মোড়। তেলেঙ্গানার বাসিন্দা পি ইয়েল্লাহর কাছে বিক্রি করার আগে একাধিক দালালের কাছে ছিল ওই একরত্তি। প্রতিক্ষেত্রেই হাতবদলে মোটা টাকা লেনদেন হয়েছে। সেই ‘মিডলম্যান’রা এখন পলাতক। তাদের ধরতে জোরকদমে তল্লাশি চালানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে। ধৃত ভিন রাজ্যের দু’জনকে জেরা করে শিশু বিক্রি কাণ্ডে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিকে, পুলিশি হেপাজতে থাকা শিশুকন্যার বাবার দাবি শুনে ‘তাজ্জব’ তদন্তকারীরা। সে পুলিশকে বলছে, ‘আর ভিতরে থাকতে পারছি না। আমার সঙ্গে স্ত্রী টোটোন ও দালাল সোনালি সাহাকে একসঙ্গে গ্রেপ্তার করা হলেও তারা এখন বাইরে ঘুরছে। তাই আমাকেও একটু বাইরে ঘুরিয়ে আনা হোক’। সেই মতো সোমবার তাকে বারাসতে নিয়ে আসে শাসন থানার পুলিশ। শাসনের দাদপুরের বাসিন্দা রবীন পাশোয়ান ও তার স্ত্রী টোটন তাদের দ্বিতীয় সন্তান ওই শিশুকন্যাকে দাদাল মারফত বিক্রি করেছিল। তদন্তে নেমে দম্পতি সহ ওই দালাল সোনালি সাহা ওরফে জাসমিনা বিবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতদের জেরার সূত্র ধরেই শিশু উদ্ধারের জন্য পুলিশের একটি টিম শনিবার পৌঁছায় অন্ধ্রপ্রদেশে। সেখান থেকে দালাল শিবা নায়েককে গ্রেপ্তার করে ওই টিম। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, দত্তপুকুরের দালাল সোনালির যাতায়াত ছিল অন্ধ্রপ্রদেশে। শিবা তার পূর্ব পরিচিত। কারণ, ভিন রাজ্যের আইভিএফ সেন্টারে যাতায়াত ছিল সোনালির। শিবা এবং সোনালি আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারকে টার্গেট করত, যাতে তারা টাকার লোভে শিশু বিক্রি করে। পাশাপাশি দালালদের নজরে থাকত ভিন রাজ্যের নিঃসন্তান দম্পতি। এভাবেই সোনালি-শিবারা আন্তঃরাজ্য শিশু বিক্রির র্যাকেট চালাত বলে পুলিশের দাবি। শাসনের দম্পতিকেও টাকার প্রলোভন দিয়েছিল সোনালি। সেইমতো কন্যা সন্তানকে বিক্রি করতে রাজি হয়েছিল দম্পতি। এরপর অন্ধ্রপ্রদেশের দালাল শিবা নায়েকের কাছে শিশুকন্যাকে নিয়ে আসে সোনালি। পুলিশ জানিয়েছে, শিবা ও সোনালির যোগসাজশে চার-পাঁচবার হাতবদল হয়েছে শিশুটি। প্রতি ক্ষেত্রেই মোটা অংকের লেনদেন হয়েছে। শেষে ছ’মাসের শিশুকন্যাকে তিন লক্ষ টাকায় বিক্রি করা হয় তেলেঙ্গানার কঙ্গাল থানার কানাগাল এলাকার বাসিন্দা পি ইয়েল্লাহর কাছে। এনিয়ে বারাসত পুলিশ জেলার সুপার দুর্বার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ইয়াল্লাহর কাছে বিক্রির আগে চার-পাঁচজন দালালের হাত ঘুরেছে ওই শিশুকন্যা। গোটা বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।