‘পুরাতন’-এ প্রথমবার শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন পরিচালক সুমন ঘোষ।
‘পুরাতন’-এ প্রথমবার শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন পরিচালক সুমন ঘোষ।
‘পুরাতন’ কি শর্মিলা ঠাকুরের শেষ ছবি?
আমরা যখন শ্যুটিং করেছিলাম, তখনও একথা বলেননি। তবে সম্প্রতি সেটাই ঘোষণা করেছেন শুনলাম।
কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন বলে মনে হয়?
এক বছর আগে যখন শ্যুটিং হয়েছিল, উনি আলাদা মানুষ ছিলেন। এখন ওঁর শরীর একদমই ভালো নেই। সইফ আলি খানের (মুম্বইয়ের বাসভবনে হামলা) ঘটনাটা হওয়ার পর মানসিক ভাবেও উনি ভালো নেই বলেই আমার মনে হয়। কিছুদিন আগে মুম্বই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটা দেখার পর উনি বলেছিলেন, এটাই ওঁর শেষ ছবি হলে ভালো হয়। এতটাই তৃপ্তি পেয়েছিলেন।
পরিচালক হিসেবে শর্মিলা ঠাকুরের সঙ্গে প্রথম কাজ করলেন, কেমন অভিজ্ঞতা?
এমন কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দু’টো শিক্ষা পেয়েছি। প্রথমত, উনি আমার চরিত্র। সেখানে ওঁর স্টারডমের প্রভাব আমার নান্দনিক বোধের উপর পড়া উচিত নয়। দ্বিতীয়ত, উনি প্রথমদিনই আমাকে বলে দিয়েছিলেন, ‘আমাকে কিন্তু ছাড়বে না সুমন’। অনেক সময় দুটো, তিনটে শট নেওয়ার পর মনে হয়, এত বড় মাপের শিল্পীকে আর বলা যাবে না, ছেড়ে দিই। কিন্তু উনি নিজেই আমাকে সেই স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। আমার কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছিল। একটা উদাহরণ দেব?
নিশ্চয়ই।
ছবিতে ওঁর নিজের গাওয়া একটা গান রয়েছে। চিত্রনাট্য পড়ার পর আমি যখন বলেছিলাম, আপনাকে গাইতে হবে। উনি বলেছিলেন, কী করে গাইব? পরে ছবির সম্পাদনা দেখার পর বুঝতে পেরেছিলেন কেন ওঁরই গানটা গাওয়া দরকার। গানটা শিখে অন্তত ২০বার হোয়াটস্অ্যাপে পাঠিয়েছিলেন। ৮০ বছর বয়সে ওঁর এই নিষ্ঠা আমাকে অবাক করেছে।
মা-মেয়ের এই গল্প বাঙালিকে নতুন কী দেবে?
মা-মেয়ের গল্প ছবির বড় একটা অংশ। কিন্তু ‘পুরাতন’ অনেক বড় ক্যানভাসের ছবি। ঋতুপর্ণার চরিত্র খুব আধুনিক। বাংলা এবং ইংরেজি শব্দ মিশিয়ে কথা বলে। আবার শর্মিলা ঠাকুরের চরিত্র শুদ্ধ বাংলায় কথা বলে। এই দ্বন্দ্বগুলো ধরা হয়েছে।
প্রযোজক ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তকে কেমন দেখলেন?
এই ছবিতে ভারত বিখ্যাত টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে কাজ করেছি। আমি নিশ্চিত অন্য কোনও প্রযোজক এই অনুমতি দিতেন না। ঋতুপর্ণা রাজি হয়েছেন। একা একজন মহিলা প্রযোজক, ওঁর বিরাট টিম নেই, তা সত্ত্বেও এই সাহসটা তো দেখালেন! এখন তো প্রযোজকরা নিরাপদ থাকতে গতে বাঁধা ছবি বানাচ্ছেন। ঋতুপর্ণা ব্যতিক্রম।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য