নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুজোর শপিং তুঙ্গে। কলকাতার গড়িয়াহাট, হাতিবাগান থেকে মফস্বলের বাজার, বিকেল হতেই গিজগিজে ভিড় দোকান, শপিং মলে। পুজোয় বাড়তি লাভের আশা করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিও। তাই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তৈরি বিভিন্ন জিনিস নিয়ে এক ছাদের তলায় একটি বিশেষ শারদ মেলার করতে চলেছে হাওড়া পুরসভা। ১২ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডুমুরজলা ইন্ডোর স্টেডিয়ামে হবে এই মেলা। আধুনিক ডিজাইনের পোশাক থেকে জাঙ্ক জুয়েলারি- পুজোর শপিংয়ের যাবতীয় জিনিস মিলবে এই মেলায়।
একটি বেসরকারি সংস্থাকে মেলা আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছে হাওড়া পুরসভা। মেলায় সাধারণের জন্য কোনও প্রবেশ মূল্য থাকছে না। ডুমুরজলা স্টেডিয়ামের এক ছাদের নীচে থাকবে হাওড়ার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ৫০ থেকে ৬০টি স্টল। পাশাপাশি বিভিন্ন নামীদামি পোশাক, জুয়েলারি, জুতো, আধুনিক আসবাব কোম্পানিও স্টল বসাবে এখানে। স্বনির্ভর গোষ্ঠী বাদে প্রায় ৮০টি এমন স্টল থাকবে মেলাতে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী দুর্গাপুজোকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা এনে দিয়েছেন। পুজোকে ঘিরে বাংলার অর্থনীতি ত্বরান্বিত হচ্ছে। পুজোয় স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে আরও প্রচারের আলোতে নিয়ে আসার জন্যই প্রথমবার এই মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। পোশাক, হাতে তৈরি বিভিন্ন অলঙ্কার বাদেও বিভিন্ন ধরনের গিফট আইটেম, খাবারের পসরা সাজিয়ে বসবে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি। ইতিমধ্যেই ৩৪টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী স্টলের জন্য আবেদন করেছে পুরসভার কাছে। গ্রামীণ এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিও যাতে আবেদন করতে পারে, সেজন্য জেলা প্রশাসন প্রচারও করছে।
পুরসভার দাবি, বড় বড় শপিং মলের তুলনায় অনেকটাই কম দামে, কিন্তু ভালো মানের জিনিসপত্র মিলবে এই মেলায়। কতটা ভিড় হয় মেলায়, তা দেখে আগামী দিনেও এই ধরনের মেলার আয়োজন করতে চায় পুরসভা। শৈলেন মান্না সরণির বাসিন্দা শ্রেয়া চক্রবর্তী, রেবা ঘোষালরা বলেন, আধুনিক ফ্যাশনে এখন কুর্তি, শাড়ির উপর বাংলার পুরনো ডিজাইন ফিরে আসছে। বুটিকগুলিতে এমন পোশাকের অনেক দাম। আশা করছি এই মেলায় বাজেটের মধ্যে ভালো কিছু পাব। পুজোর কেনাকাটা বাদেও হাওড়া পুরসভা, সিটি পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারের জন্যও স্টল থাকবে। নিজস্ব চিত্র