নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উৎসব পর্ব শুরু হওয়ার আগে পুরভোট নিয়ে সরগরম রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। শাসক দল বিজেপি যখন পুরভোটের প্রস্তুতিতে এককদম এগিয়ে গিয়েছে, তখন সেখানে বিরোধীরা ছন্নছাড়া। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই পুরভোটে বিরোধীরা একজোট হবে কি না, সেই প্রশ্নটা উঠে গিয়েছে। আবার তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এনডিএ শরিক হিসাবে এনসিপিআই থাকলেও বিজেপি একক লড়াইয়েই পুরভোটে জিততে সক্ষম।
ঘটনাচক্রে এনসিপিআই দলের সাংসদ তথা গুরুত্বপূর্ণ নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সম্প্রতি বলতে শোনা গিয়েছে, এনডিএ শরিক হিসাবে যখন আমরা রয়েছি, তখন বিজেপির সঙ্গেই পুরভোটে লড়াই করব। যদিও কাকলির এই প্রস্তাব বিজেপি যে গ্রহণ করছে না, সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্যে। বুধবার শমীক বলেন, এনসিপিআই নতুন দল। ২০ জন সাংসদ তৃণমূলের প্রতীকে জিতে এসেছেন, এখন এনডিএতে শামিল হয়েছেন। কিন্তু ওই ঘটনা হয়েছে দিল্লিতে। প্রায় ১৫০০ কিমি দূরে। কলকাতায় আসতে সময় লেগে যাবে। বিধানসভা নির্বাচনে একার শক্তিতেই বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। কারও দয়া বা আশীর্বাদে নয়। তাই এনসিপিআইকে নিয়ে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব নেবেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি একক শক্তিতেই পদ্মফুল প্রতীকে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন জয় করতে সক্ষম।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি যখন একক লড়াইয়ের কথা বলছেন, তখন সিপিএম ও কংগ্রেসের সঙ্গে ‘হাত’ ধরার বিষয়টি উসকে দিয়েছেন আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। তাঁর বক্তব্য, তৃণমূল এখন দু-তিনটি ভাগে বিভক্ত। বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূল লড়াই দিতে পারবে না। তাই একটি ঐক্যবদ্ধ লড়াই দরকার। ২০২৬ সালের মতো জাতীয় কংগ্রেস গোঁ না ধরে এবং বামেরা উদার হয়ে, আইএসফের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করলে বিজেপিকে পুরভোটে হারানো সম্ভব।
তবে পুরভোট নিয়ে কংগ্রেস, সিপিএম, আইএসএফ জোট হবে কি না, সেই চর্চা যেমন আরও কয়েকদিন চলবে। তেমনই চর্চা চলবে বিজেপি কি পুরযুদ্ধে এনসিপিআইকে সঙ্গে নেবে। রাজনীতিবিদরা বলে থাকেন, রাজনীতি হল সম্ভাবনার শিল্প!
যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল দাবি করেছে, তারা একক শক্তিতেই কলকাতা পুরসভার ২০৯টি আসনে প্রার্থী দেবে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ডিলিমিটেশনের কাজ ঠিকঠাক মতো হয়ে এবং বিজেপিকে সুবিধা করে দিয়ে নয়, ভোট স্বচ্ছভাবে হলে পুরবোর্ড আমাদেরই হবে। মমতার প্রতি ঢেলে সমর্থন দেবেন শহরের মানুষ।
এদিকে কলকাতা পুরসভার প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। শুভঙ্কর দাবি করেছেন, প্রকাশ করতে হবে প্রতিটি ওয়ার্ডের ভৌগোলিক এলাকা, জনঘনত্ব, ভোটার সংখ্যা এবং এসসি-এসটি সংক্রান্ত তথ্যাদি। ওয়ার্ড ধরে ধরে আপত্তি জানানোর সময়সীমাও বাড়াতে হবে।