Bartaman Logo
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শালবনী জমি দুর্নীতি: সুমিতকে টাকা পাঠানো ব্যক্তিদের নামের তালিকা পেল সিআইডি

শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের কাছে কারা ,কীভাবে টাকা পাঠাতেন, তার তথ্য পাচ্ছে সিআইডি।

শালবনী জমি দুর্নীতি: সুমিতকে টাকা পাঠানো ব্যক্তিদের নামের তালিকা পেল সিআইডি
  • ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: শালবনী জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার অভিষেকের আপ্ত সহায়ক সুমিত রায়ের কাছে কারা ,কীভাবে টাকা পাঠাতেন, তার তথ্য পাচ্ছে সিআইডি। সরকারি জমি বেআইনিভাবে বিক্রি করে শুধু মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তৃণমূল সুজয় হাজরা একা নন, আরও অনেকেই সুমিত বাবুর কাছে টাকা পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ। তার একটা তালিকা হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। এমনকি টাকার হিসেব রাখতে আলাদা করে ‘ক্রমিক’ বানানো হত বলে জেনেছেন তদন্তকারীরা। এদিকে আদালতে জমা দেওয়া ফরওয়ার্ডিং রিপোর্টে সিআইডি দাবি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদে আপ্ত সহায়ক কার্যত মেনে নিয়েছেন, তিনি অসহযোগিতা করেছেন। অপরাধের কথা তিনি স্বীকার করেছেন। এর পিছনে একটা বড় চক্র আছে। জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্তে নেমে আধিকারিকরা জেনেছেন, প্রতি সপ্তাহে টাকা পাঠাতেন সুজয় হাজরা। এই টাকা রিসিভ করতেন সুমিত ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি। টাকা যে পেয়েছেন, সেটি মেসেজ করে জানিয়ে দিতেন আপ্ত সহায়ক। তার প্রমাণ মোবাইল থেকে মিলেছে বলে খবর। বহুবার দুজনের মধ্যে টাকা পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। শুধু জমি দুর্নীতির টাকা নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরে বেআইনি বালি খাদান চলত। সেগুলি চালাতেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। এর জন্য যে টাকা তোলা হয়েছে, তার একটা বড় অংশ ক্যামাক স্ট্রিটে এসে পৌঁছত বলে তদন্তে উঠে আসছে। যদিও সুমিতের দাবি, এই নিয়ে তিনি কিছু জানেন না। তবে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু চ্যাট তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। তদন্তে উঠে আসছে, পুলিশের বদলির ক্ষেত্রে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুমিতের। তাঁর কথাতেই পুলিশের আধিকারিক এবং থানার ওসিদের বদলি হত। বদলির ক্ষেত্রে  বিপুল টাকা লেনদেন চলত বলে অভিযোগ। এই টাকাও ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছেছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি পালাবদলের পর বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় থানার কর্মরত আইসিদের সিংহভাগই তাঁর লোক বলে পরিচিত। তিনি তাঁদের পোস্টিং করিয়েছিলেন।  এই সমস্ত পুলিশ অফিসারদের কাছে তিনি বিভিন্ন বেআইনি নির্দেশ পাঠাতেন বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি বেআইনি টাকা কলকাতায় আনার ক্ষেত্রে পুলিশের এসকর্ট দিয়েছেন বিভিন্ন অফিসাররা। যদিও সুমিতবাবু দাবি করেছেন, বদলিতে তাঁর কোনো হাত ছিল না। এই নিয়ে কোনো টাকা আসে নি তাঁর কাছে। বিভিন্ন সময় টাকা যে আপ্ত সহায়কের কাছে এসেছে, তার প্রমাণস্বরূপ একটা তালিকা পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখানে কে কত টাকা কী কারণে পাঠিয়েছেন, তার ক্রমতালিকা রয়েছে। এই টাকা যাঁদের কাছ থেকে এসেছে, তাঁদের ডাকা হবে বলে খবর।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ