


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: গাড়িতে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নম্বর লাগিয়ে শক্তিগড়ে এসেছিল রহস্যজনক সেই পাঁচজন। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় তারা পরিচয়ও ভুল দিয়েছিল। তবে, ঘটনার পর দু’দিন কেটে গেলেও পুলিস সেই গ্যাংয়ের হদিশ পায়নি। ওই পাঁচজনকে বুধবার রাতে শক্তিগড়ের হীরাগাছিতে শোরগোল পড়ে যায়। সিভিক ভলেন্টিয়ার তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়ায় তারা গাড়ি ছুটিয়ে চম্পট দেয়। একের পর এক গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। পুলিসের গাড়ি ধাওয়া করলেও তাদের নাগাল পাওয়া যায়নি। তাদেরকে বাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল শক্তিগড়ের এক ব্যক্তি। তাকে পুলিস আটক করে জেরা করে। সে জানায়, ওই পাঁচজন গোরু কেনাবেচার ব্যবসা করার জন্য ভিনরাজ্য থেকে এসেছিল। হীরাগাছিতে ঘরভাড়া নিয়ে ব্যবসা করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু পুলিসের গাড়ি দেখে তারা কেন তাড়াতাড়ি চম্পট দিল সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও রহস্যে ঢাকা রয়েছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি মোবাইলের সূত্র ধরে পুলিস রহস্যজনক ওই পাঁচজনের কাছে পৌঁছতে চাইছে। ঘটনার দিন তাদের মধ্যে একজন বাড়ির মালিককে ফোন করেছিল। সেই নম্বরের সূত্র ধরে তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা পুলিস করছে। তবে, সেই মোবাইলের সিমকার্ডটি ওই ব্যক্তি নিজের নথি দিয়ে কিনেছিল কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তারা শুধু গোরু কেনাবেচার ব্যবসা করার জন্য এসেছিল নাকি অন্য কোনও ‘অপারেশন’ করতে এসেছিল তা নিয়েও তদন্তকারীরা সংশয়ে রয়েছেন।
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ব্যবসা করার জন্য অনেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে আসেন। ঘরভাড়া নিয়ে থাকেনও। কিন্তু কখনই স্থানীয় বাসিন্দা বা পুলিসকে দেখে ওভাবে পালায় না। ওদের অসৎ কোনও উদ্দেশ্য ছিল। গ্যাংটিকে পাকড়াও করতে না পারলে পরিষ্কার হবে না। শক্তিগড়ের ওই ব্যক্তি পুলিসকে জানিয়েছে, হুগলির পাণ্ডুয়ার একজনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। পাণ্ডুয়ার ব্যক্তি তাদেরকে গোরু ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়েছিল। তবে, রহস্য না কাটায় শক্তিগড়ের বাসিন্দারা এখনও বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে।