দুবাই: গ্রুপের সাক্ষাতে প্রথম বলেই শাহিন শাহ আফ্রিদির ফুলটসে বাউন্ডারি মেরেছিলেন অভিষেক শর্মা। পরের বলটাই উড়ে যায় একস্ট্রা কভারের উপর দিয়ে। সুপার ফোরের ম্যাচে শুরুটা হয়েছিল বাউন্সারে ছক্কা হাঁকিয়ে। রবিবার এশিয়া কাপের ফাইনালে বাঁ-হাতি ওপেনার কী করবেন? শাহিনের প্রথম বলে চার-ছয় মারবেন, নাকি অন্য কিছু ঘটবে? জল্পনা চলছে ক্রিকেট মহলে। অনেকের মতে, এই দ্বৈরথের উপরই নির্ভর করছে ফাইনালের গতিপথ। ভারতের বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল বলেছেন, ‘শাহিন হল আক্রমণাত্মক বোলার। ও নিশ্চিতভাবেই চাইবে শুরুতে আঘাত হানতে। আর অভিষেকও পিছু হঠার বান্দা নয়। ওদের মধ্যে তাই উপভোগ্য লড়াই হতে চলেছে। ক্রিকেটের স্বার্থেও এটা দারুণ ব্যাপার।’
শুক্রবার সুপার ফোরে নিয়মরক্ষার ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে অবশ্য ফিল্ডিংয়ের সময় ডান ঊরুতে অস্বস্তি টের পান অভিষেক। বিপক্ষ ইনিংসের ৯.২ ওভারে তিনি বেরিয়ে যান। আর ফিল্ডিং করেননি। সুপার ওভারে ব্যাটও করতে আসেননি। ফলে তাঁর চোট নিয়ে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের আশ্বস্ত করেছেন মর্কেল। তিনি বলেছেন, ‘অভিষেক একদম ঠিকঠাক রয়েছে।’ সুপার ফোরে পরপর তিন ম্যাচে হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন ২৫ বছর বয়সি। তাঁর ধুমধাড়াক্কার সামনে অসহায় দেখিয়েছে বিপক্ষ বোলারদের। অন্যদিকে, শাহিন আবার ফাইনালে ওঠার জন্য দুটো মরণ-বাঁচন ম্যাচেই জ্বলে উঠেছেন সবুজ জার্সিতে।
অভিষেককে নিয়ে দুশ্চিন্তা না থাকলেও হার্দিক পান্ডিয়াকে নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যার জন্য শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এক ওভারের বেশি বল করেননি তিনি। ভারতীয় দল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছে হার্দিকের জন্য। নতুন বলে তিনিই প্রতি ম্যাচে আক্রমণ শুরু করছেন। ছন্দেও দেখা যাচ্ছে তাঁকে। হার্দিকের উপস্থিতির জন্যই মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে খেলছে ভারত। সেজন্যই তাঁকে খেলাতে মরিয়া টিম ইন্ডিয়া।
শুক্রবারের শ্রীলঙ্কা ম্যাচ গড়িয়েছিল সুপার ওভার পর্যন্ত। অর্থাৎ, বাড়তি সময় খেলতে হয়েছে ভারতকে। গত রবিবার থেকে ধরলে আটদিনে চতুর্থ ম্যাচ খেলতে নামবেন সূর্যরা। ফাইনালের আগে কুলদীপ যাদব, বরুণ চক্রবর্তীরা পাচ্ছেন মাত্র একদিনের বিশ্রাম। ক্লান্তি কাটানোর জন্য শনিবার তাই অনুশীলন রাখেইনি টিম ইন্ডিয়া। শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর মর্কেল সেজন্য বলেছেন, ‘বিশ্রাম নেওয়াই এখন বেশি দরকার। সেটাই চাবিকাঠি। তরতাজা হওয়ার সেরা দাওয়াই ঘুমানো। ক্লান্তি কাটাতে শ্রীলঙ্কা ম্যাচের ম্যাচের পরই আইস বাথ নিয়েছে খেলোয়াড়রা।’ শনিবারও দিনভর ক্রিকেটারদের তরতাজা রাখায় জোর দেওয়া হল। সকালে ঘুম ভাঙার পর সঞ্জু স্যামসন, তিলক ভার্মাদের জন্য ছিল পুল সেশন। তারপর কেউ কেউ ম্যাসাজ নেন। পাক বধের হোমওয়ার্ক চলতে থাকে ফাঁকে ফাঁকে। শিবিরে যাতে আত্মতুষ্টি বাসা না বাঁধে, সেজন্য সতর্ক ক্রিকেটাররা।