


সন্দীপন দত্ত, মালদহ: বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা কেমন হবে? ভোট পর্বে এসে মানুষের ‘আচরণবিধি’ কেমন হবে, সেই বার্তা আরেকবার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এবার নিদান দিলেন বিবাহ নিয়ে। বহুত্ববাদের রাজ্যে একইসঙ্গে জোর দিলেন বিভাজনের! অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করার নামে শাহ ভয় দেখালেন সেই সংখ্যালঘুদেরই।
এদিন মালদহের মানিকচকের মথুরাপুরের সভায় শাহের মন্তব্য, ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) লাগু হবে। তখন আর কেউ চারটে বিয়ে করতে পারবে না। লাভ জিহাদ এবং ল্যান্ড জিহাদ দুটোই বন্ধ করবে বিজেপি। গৌড়বঙ্গে এদিন একগুচ্ছ কর্মসূচি ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। মাঝে ভাঙন কবলিত মথুরাপুর বিএসএস স্কুলের মাঠে জনসভা করেন। এক ঘণ্টা দেরিতে সভাস্থলে পৌঁছে অনুপ্রবেশ তত্ত্বের পাশাপাশি ইউনিফর্ম সিভিল কোডের প্রসঙ্গ টেনে শাহের মন্তব্য, মালদহবাসী বলুন তো, কিছু লোককে চারটে করে বিয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে,আর কিছু মানুষকে একটা করে। এটা কী ঠিক হল! আপনারা চিন্তা করবেন না, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়ে এই আইন লাগু করবে। বাংলায় আর কেউ চারটে করে বিয়ে করতে পারবে না। পালটা, তৃণমূলের মালদহ জেলার মুখপাত্র শুভময় বসু বলছেন, শুধু সংখ্যালঘু নয়, আদিবাসী সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বহু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে একাধিক বিয়ে করার রীতি আছে। আসলে বাঙালিকে হুমকি দিচ্ছেন অমিত শাহ।
এদিন শাহ বক্তৃতায় বারবার অরক্ষিত সীমান্তে ফেন্সিং না বসানোর জন্য দায় চাপালেন রাজ্যের ঘাড়ে। উচ্চারণ করলেন না প্রতি বছর গঙ্গা, ফুলহারের ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো দুর্গতদের জন্য কেন্দ্র কী পরিকল্পনা করছে তার কথা। তাঁর মন্তব্য, শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ বা পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে ভারতীয় জনতা পার্টি বের করবে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির ছুতোয় নির্বিচারে যে ক’টি জেলায় ‘গণহারে’ সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে মালদহ অন্যতম। গণতন্ত্রের উত্সবের ঠিক আগে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়া ওই ডিলিটেড ভোটারদেরই নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর তীব্র সমালোচনা করে জেলা তৃণমূল বলছে, এ তো হুমকির শামিল! অমিত শাহ অনুপ্রবেশকারীদের কথা বলে আসলে সংখ্যালঘুদেরই দেশছাড়া করার কথা বলেছেন। বিজেপি আসলে বাঙালির নিয়ন্ত্রক হতে চাইছে।
নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির আঁতাতের অভিযোগ করে শুভময়ের তির, শাহ বলছেন নির্বাচন কমিশন এসআইআর করে অনুপ্রবেশকারীদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। তার পরেই তিনি বলছেন বিজেপি অনুপ্রবেশকারীদের ‘চুন চুনকে নিকালেগা’। এই বক্তব্যের অর্থ বিজেপির হয়েই কাজ করছে নির্বাচন কমিশন। যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম থেকেই বলে আসছেন।