


সুখেন্দু পাল, জামালপুর: শুক্রবার জামালপুরে সভা থেকে মতুয়াদের সামনে ফের নাগরিকত্ব দেওয়ার ‘গাজর’ ঝোলালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু মতুয়াদের মন পেলেন না। এই জামালপুরেই মতুয়াদের আধারকার্ড নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছিল মোদি সরকার। সমস্ত পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁদের রাতের ঘুম চলে গিয়েছিল। সেই সব দিনের কথা ভোলেননি তাঁরা। শাহ যখন এদিনের সভা থেকে মতুয়াদের মন জয়ের চেষ্টা করছিলেন সেখান থেকে কিছুটা দূরে জামালপুর বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়েছিলেন উজ্জ্বলা সরকার নামে এক মহিলা। তিনি বলেন, দু’বছর আগে ঝাপানডাঙায় আমার এক আত্মীয়ের আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছিল। সেটা মোদি সরকার করেছিল। ওরা আমাদের উন্নতির কথা বলে কীভাবে? সেইসময় দিদি পাশে না দাঁড়ালে কী হতো কে জানে!
আর এক বাসিন্দা শম্ভু বসাক বলেন, যারা আধারকার্ড নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে তারা কখনোই মতুয়াদের উন্নতির কথা ভাববেন না। গত লোকসভা নির্বাচনের আগেও মেমারিতে এসে অমিত শাহ নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আমরা এতদিন ধরে এদেশে রয়েছি। আবার নতুন করে নাগরিকত্ব নিতে হবে কেন? বিজেপি সরকার মতুয়াদের আধারকার্ড নিষ্ক্রিয় করে অপমান করেছিল। তার জবাব ওরা পাবে। সেটা বুঝতে পেরেই হয়তো সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের জৌগ্রাম, ঝাপানডাঙা সহ বিভিন্ন এলাকায় মতুয়ারা রয়েছেন। তাঁরা ভোটে বড় ফ্যাক্টর। সেকারণেই অমিত শাহ সভা থেকে একাধিকবার মতুয়াদের প্রসঙ্গ তোলেন। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হবে না বলে তৃণমূলের দাবি। জামালপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ভূতনাথ মালিক বলেন, ওরা মতুয়াদের অপমান করেছে। বারবার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিজেপির মিথ্যাচার মানুষ ধরে ফেলেছে। তাছাড়া ওরা আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যায় ফেলেছিল। এসব কথা তাঁরা ভুলবেন কী করে?
স্থানীয়রা বলেন, আচমকা আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ায় মতুয়া সমাজের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়। সেইসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের পাশে দাঁড়ান। আধার কার্ড সক্রিয় করার বন্দোবস্ত করেন। সেই থেকেই মতুয়ারা বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে। তারপর আবার এসআইআরে বহু মতুয়ার নাম বাদ গিয়েছে। যাঁরা ১৫-২০ বছর আগে এরাজ্যে এসেছেন তাঁদের নামও বিচারাধীনের তালিকায় চলে গিয়েছে। তাতে মতুয়াদের ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়ে। তাঁরা বলেন, কেউ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশ থেকে আসেনি। অত্যাচারের জন্য তাঁদের চলে আসতে হয়েছিল। বিজেপি পাশে থাকার পরিবর্তে অবৈধ ভোটারের তকমা সাঁটিয়ে দেয়। ভোটের সময় মতুয়া দরদি সাজতে নানা ধরনের বক্তব্য তাঁরা রাখছেন। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা তিক্ত থাকায় তা তেমন কাজে আসছে না।