


মঙ্গল ঘোষ, পুরাতন মালদহ: মঙ্গলবার গাজোল এবং হবিবপুর বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থীদের সমর্থনে গাজোলের টোল ট্যাক্স সংলগ্ন মাঠে জনসভা করেন অমিত শাহ। সেই সভার শুরুতেই পদ্ম পার্টির নেতা ভোটের কয়েক দিন আগে নিজের ভঙ্গিতে আড়াইডাঙ্গা, বুলবুলণ্ডী মা কালী, জহরা ও মদন মোহন জিউর, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু সহ একাধিক দেবদেবীর এবং মন্দিরের নাম নিয়েছেন। সেগুলির অবস্থান হবিবপুর এবং ইংলিশবাজার সহ বিভিন্ন এলাকায়।
কিন্তু অমিত শাহ এসেছিলেন গাজোলের মাটিতে। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে যেখানে তিনি সভা করলেন, সেখান থেকে স্থানীয় এলাকার ঐতিহ্যবাহী আদি শ্যামাকালী, তারা মা কালী, পঞ্চমুখীকালী মন্দিরের দূরত্ব ১ থেকে ৩ কিমি। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের ভাবাবেগ জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে আদি শ্যামাকালী মা ২০০ বছরের প্রাচীন। অনেকেই সেখানে মানত করেন। তারা কালী মন্দিরে বিশেষ তিথিতে পুজো হয়। সম্প্রতি গাজোলের বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা পুজো দিয়ে আশীর্বাদ নিতে গিয়েছিলেন। তবুও ওই মন্দিরগুলির নাম একবারের জন্য উচ্চারণ করলেন না দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সভার পর বিষয়টি নিয়ে গাজোলে চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই এতে কার্যত হতাশ হয়েছেন।
এদিকে তৃণমূলের দাবি, অমিত শাহ এবং বিজেপির অন্য নেতারা সবাই বহিরাগত। তাঁরা গাজোলের ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি কিছুই জানে না বলে তোপ দেগেছেন তৃণমূলের গাজোল ব্লক সভাপতি রাজকুমার সরকার।
তিনি বলেন, অমিত শাহ তো ধর্মের কথা বলে নাটক করতে এসেছেন। আমরা নাটক করি না। আমরা মন্দির, মসজিদ, চার্চ সব জায়গায় যাই। দুর্গাপুজোর জন্য ক্লাবকে টাকা দেওয়া হয়। দেশের কোনো রাজ্যে এভাবে টাকা দেওয়া হয় না। দিদি মানবিক।
বিজেপির উত্তর মালদহের সাধারণ সম্পাদক তথা গাজোল বিধানসভা ইনচার্জ বীণা কীর্তনীয়া বলেন, তিনি গাজোলে আদিনাথ মন্দিরের কথা বলেছেন। বক্তব্যে মন্দিরের নাম আমরা ঠিক করে দিই। তিনি গাজোলের আদি কালী মাতার নাম বলেছেন।