নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আটমাস পার। কিন্তু এখনও বঙ্গ বিজেপির সভাপতি ঘোষণা হল না। দু’দিনের রাজ্য সফরে এসেছিলেন অমিত শাহ। রাজ্য নেতাদের অনেকেই ভেবেছিলেন, বিধানসভা ভোটের আগে এবার রাজ্য সভাপতি নিয়ে চলা এই অচলাবস্থা কাটবে। কিন্তু সে গুড়ে বালি! আশু সাংগঠনিক রদ-বদল নিয়ে রা কাড়লেন না দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি। এমনকী ‘মেয়াদ উত্তীর্ণ’ রাজ্য কমিটির সদস্যদের নিয়ে কোনও বৈঠকও করেননি তিনি। এ নিয়ে দলের মধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। কোর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলাদা করে বসার জন্য সময় বরাদ্দ করেননি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পার্টির এক প্রবীণ নেতার কথায়, ২০১৪ সাল থেকে দেখছি, অমিত শাহ বাংলায় এলে প্রায় সবসময় সাংগঠনিক রিভিউ বৈঠক ডাকেন। বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় পদাধিকারীদের থেকে ‘ইনপুট’ নেন। পাশাপাশি পরবর্তী রাজনৈতিক ‘হোম টাস্ক’ দিয়ে যান। পরবর্তী সফরে এসে তা সংগঠন তার দেখানো পথে কতটা এগল তার মূল্যায়ন বৈঠক করেন। সেখানে কখনও জেলা সভাপতিদের, রাজ্য সাধারণত সম্পাদক, মণ্ডল সভাপতি এমনকী আইটি সেলের সদস্যদের সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হয়েছেন শাহ। এটি কখনও হয়েছে বড় আকারে, কখনও হয়েছে চরম গোপনীয়তা মেনে। কিন্তু এবার এই ধরনের কোনও বৈঠকই হল না! এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন ওই নেতা। বর্তমানে বঙ্গ বিজেপির হতশ্রী সাংগঠনিক দশায় অমিত শাহের এহেন আচরণ নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা তৈরি হয়েছে। আগামী বিধানসভা ভোট কার নেতৃত্বে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল লড়বে সেই প্রশ্ন এড়াতেই কি বৈঠক করলেন না শাহ। ভিন্ন অংশের মত, কোর কমিটির বৈঠক ডাকলে তার অন্যতম সদস্য দিলীপ ঘোষকে পাছে আমন্ত্রণ জানাতে হয়। সেই কারণেই যাবতীয় সাংগঠনিক বৈঠক এড়ালেন অমিত শাহ। নয়া দলের নয়া সার্কুলারে জুন মাসের মধ্যে সব বুথে কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কংগ্ৰেসের জরুরি অবস্থা জারির প্রতিবাদ দিবস পালন করতে হবে। প্রয়োজনে জেলায় জেলায় জনসভা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাম দিতে বলা হয়েছে—‘সংবিধান এবং গণতন্ত্র হত্যাকারী কংগ্রেসকে চিনে নিন’।



