


বিশেষ সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: অসমের কাছাড় জেলার শিলচর বাইপাসে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি। গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হবু স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল ৭ জনের বিরুদ্ধে। গত বৃহস্পতিবার শিলচর বাইপাসের চেংকুড়ি রোড সংলগ্ন এলাকায় রাত ৮টা নাগাদ ঘটে ঘটনাটি। এদিকে, এই ঘটনার পরদিনই সফর ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার। খুব স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তার কড়া বলয় ছিল শহরজুড়ে। কিন্তু তারপরেও এই ধরনের ঘটনা ঘটল কীভাবে, তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। তারা জানিয়েছে, এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জেরা করে বাকিদের খোঁজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সামনেই ওই তরুণীর বিয়ে। হবু স্বামী শিলচরেরই বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাত হবু স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন তিনি। নির্যাতিতা জানিয়েছেন, বাইপাসে চেংকুড়ি রোডের কাছে গাড়ি থামিয়ে ভেতরে বসেই দু’জনে কথা বলছিলেন। সেসময় একটি গাড়ি এসে তাদের সামনে দাঁড়ায়। ৭ যুবক গাড়ি যুবতী এবং তার হবু স্বামীকে ছুরি দেখিয়ে গাড়ি থেকে নামতে বলে। যুবককে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে কিছুটা দূরে আটকে রাখা হয়। আর যুবতীর উপর শুরু হয় নারকীয় অত্যাচার। যাওয়ার সময় যুবতীয় সোনার আংটি এবং তার হবু স্বামীর থেকে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে দশ হাজার টাকা নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
পুলিশকে নির্যাতিতা জানান, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে চিনতে পেরেছেন তিনি। নাম নীলোৎপল দাস (২৫)। শিলচরের আশ্রম রোড এলাকার তপোবন নগরের বাসিন্দা সে। এরপরই তৎপর হয় পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় ওই যুবককে। তল্লাশি চলছে বাকিদের খোঁজে। কাছাড় জেলার অপরাধ দমন শাখার অতিরিক্ত পুলিস সুপার রজত কুমার পাল জানিয়েছেন, অভিযোগকারীর এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, নীলোৎপল স্বীকার করেছে, ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকার কথা। তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে তার দাবি, যুবতী ও তার বন্ধুকে গাড়িতে ‘আপত্তিজনক অবস্থায়’ দেখতে পেয়ে তাদের ব্ল্যাকমেল করা হয়। ইউপিআইয়ের মাধ্যমে দশ হাজার টাকাও নেয়। এমনভাবে তারা আগেও বিভিন্ন সময় দম্পতিদের ব্ল্যাকমেল করে টাকা আদায় করেছে বলে জানিয়েছে নীলোৎপল।
স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর সফরের আগের দিন শহরে এমন ঘটনায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ আম জনতা। বাইপাসে নিয়মিত পুলিশি টহলদারির দাবি তুলেছেন তাঁরা। তাদের তৃণমূল সাংসদ তথা শিলচরের নেত্রী সুস্মিতা দেব এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে নারীসুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কাছাড় জেলার পুলিস সুপারকে চিঠিও লিখেছেন তিনি।