Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাগরপাড়ায় মাঠের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে অচেনা জন্তু, আতঙ্ক

সাগরপাড়ায় মাঠের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে অচেনা জন্তু, আতঙ্ক
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ডোমকল: গমের খেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিদঘুটে চেহারার চারপেয়ে এক প্রাণী। দেহের পেছনের দিক কাঁধের থেকে নিচু। সামনের পা পেছনের পা থেকে খানিকটা লম্বা। কেউ বলছেন নীলগাই! কারও মত অন্য কিছু। শনিবার বিকেলের দিকে সাগরপাড়ার সীসাপাড়ায় বিলের ধারে এমন এক অচেনা প্রাণীর আনাগোনায় ধন্দে গ্রামবাসী থেকে পুলিস কর্তারাও। অনেকে প্রাণীটিকে নীলগাই হিসেবে চিহ্নিত করলেও সাগরপাড়ার বিলের মাঠে নীলগাই কোথা থেকে আসবে তা নিয়েও নতুন রহস্য দানা বেঁধেছে। তবে প্রাণীটি নীলগাই হওয়ার সম্ভবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না বনদপ্তর।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে খবর, খেতের জমিতে পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছিল দিন কয়েক ধরেই। শনিবার বিকেলে সীসাপাড়ায় খয়রামারী বিলের ধারে গমের খেতে ওই চারপেয়ে প্রাণীটিকে দেখতে পান কৃষকরা। সেটা কী প্রাণী তা নিয়ে ধন্দ শুরু হয় তাঁদের মধ্যে! হুট করে মাঠের মধ্যে ওই প্রাণীটিকে দেখেই চমকে যান অনেকেই। প্রথম দেখায় অনেকেই গোরু ভেবে বসেন। এরপরে প্রাণীটিকে আশপাশে ঘুরতে দেখে তারা অনুধাবন করেন প্রাণীটি আর যাই হোক, গোরু কিংবা ঘোড়া কোনওটিই নয়। মূলত বিকেলের দিকে দেখা গিয়েছিল প্রাণীটিকে। এর আগেও গমের খেতের মধ্যে ওই প্রাণীর পায়ের ছাপ দেখতে পেয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন অনেকেই প্রাণীটিকে বিলের ধারে চরে বেড়াতে দেখেন। তবে সবসময়ে সেটিকে দেখা যাচ্ছে না। কোথায় আশ্রয় নিচ্ছে তাও জানা সম্ভব হচ্ছে না। উৎসাহী কেউ কেউ ওই প্রাণীটির ভিডিও, ছবি তুলেছেন। সেই ভিডিও, ছবিগুলিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
সেই ছবি দেখে বনদপ্তর জানিয়েছে, এটি নীলগাই হতেই পারে। যা এ রাজ্যে খুব বেশি দেখা না গেলেও বিহার, উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যে প্রচুর দেখা যায়। বিহার বা বাংলাদেশ থেকে সেটি সাগরপাড়ায় আসার সম্ভবনা রয়েছে। কারণ প্রাণীটি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে। এর আগেও জেলায় দেখা মিলেছে শান্ত স্বভাবের ওই প্রাণীর। এর আগে রঘুনাথগঞ্জ, বেলডাঙ্গার দিকে তৃণভোজী এই প্রাণীটির বিচরণের কথা শোনা গিয়েছিল। তবে অতি দ্রুত বিচরণে সক্ষম হওয়ায় কোনওবারই প্রাণীটিকে ধরা যায়নি। 
শনিবার সাগরপাড়ার সীসাপাড়ায় যখন প্রাণীটি ঘুরে বেড়াচ্ছিল, সেই সময়ে খেতের জমিতে জল দিতে গিয়েছিলেন সাগরপাড়ার একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক রবকুল হাসান। তিনি বলেন, আমি রসুনের জমিতে জল দিতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ চোখ সামনে যেতেই দেখি, একটা প্রকাণ্ড আকারের প্রাণী দাঁড়িয়ে আছে। এরপরে ভালো করেই দেখেই বুঝতে পারি, ওই প্রাণীটি অন্য কিছু নয়, সেটি হল নীলগাই। আমি এর আগেও নীলগাই দেখেছিলাম। ওই কারণে আমি প্রাণীটি দেখেই চিনতে পেরে গিয়েছিলাম।
নদীয়া-মুর্শিদাবাদের ডিএফও উৎপল নাগ বলেন, এর আগেও কান্দিতে নীলগাই দেখা গিয়েছে শুনেছিলাম। তবে আমাদের কর্মীরা কান্দিতে গিয়েও প্রাণীটির দেখা পায়নি। হতে পারে প্রাণীটি সেই সময়ে বীরভূমের দিকে চলে গিয়েছিল। তবে সাগরপাড়ায় নীলগাই দেখার বিষয়ে এখনও কিছু তথ্য পাইনি আমি। না দেখে সেটি নীলগাই কি না তা বলা সম্ভব নয়। তবে এখানে নীলগাই আসার সম্ভবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ