নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: যৌন নির্যাতনের শিকার হল এক শিশুকন্যা। বয়স মাত্র ৬ বছর। মাকে জানিয়েছিল, যৌনাঙ্গে ব্যথা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য মা তাকে নিয়ে যান আর জি কর হাসপাতালে। তখনও জানতেন না কী ঘটেছে। তবে, চিকিৎসকরা খতিয়ে দেখে বুঝতে পারেন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে শিশুকন্যা। ঘটনা শুনে হতবাক হয়ে যায় পরিবার। একদিন নয়। প্রায় বছরখানেক ধরে শিশুর উপর চলেছে ওই নির্যাতন। প্রথমে টালা থানায় জিরো এফআইআর। তারপর লেকটাউন থানায় স্থানান্তর। তবে, অভিযোগ আসা মাত্রই কড়া পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। ২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে লেকটাউন থানার পুলিশ। তদন্তে যান পুলিশ কমিশনারও। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত যুবক সম্পর্কে শিশুকন্যার পিসতুতো দাদা। নাম রাজীব বিশ্বাস। ধৃতের বিরুদ্ধে ৬ পকসো অ্যাক্ট এবং বিএনএস ৬৪ ধারায় ধর্ষণের মামলা রুজু হয়েছে।
কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, লেকটাউন থানায় এলাকায় শিশুটির বাড়ি। অভিযুক্ত দাদা রাজীবও থাকে সেখানে। একটি আইটি কোম্পানিতে সেলসের কাজ করে। ব্যথা করছে শুনে বৃহস্পতিবার শিশুর মা আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান। চিকিৎসকরা যৌন নির্যাতনের চিহ্ন পান। তারপর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের পক্ষ থেকেই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। টালা থানা হয়ে লেকটাউন। শুক্রবার সকালে শিশুকন্যার পরিবারের লোকজন লেকটাউন থানায় যান। কিছুক্ষণের মধ্যে রাজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার ত্রিপুরারি অর্থব এবং ডিসি বিধাননগর দেবরাজ দাস লেকটাউন থানায় তদন্তে যান। পুলিশকে শিশুকন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় এক বছর ধরেই শিশুটির উপর যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। শিশুটির এখনও জ্ঞান হয়নি। তাই সে জানায়নি। ব্যথা হওয়ায় জানিয়েছে। তাঁরাও টের পাননি। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে না গেলে হয়ত জানতেই পারতেন না। বিষয়টি সামনে আসতেই এলাকায় হইচই ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রাও ধৃতের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। তাঁদের কথায়, নিষ্পাপ শিশুর উপর যৌন নির্যাতনের কড়া শাস্তি হওয়া উচিত। কমিশনারেটের এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, অভিযোগ সামনে আসার ২ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। নিজস্ব চিত্র