Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সেক্সটরশন! মানিকতলায় ধৃত ছাত্রী

অ্যাপের মাধ্যমে চলছিল সেক্সটরশন চক্র। তরুণরাই ছিল মূল টার্গেট। পরিচয়ের পর প্রথমে উত্তেজক কথাবার্তা, তারপর মেসেজ আদানপ্রদান।

সেক্সটরশন! মানিকতলায় ধৃত ছাত্রী
  • ৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অ্যাপের মাধ্যমে চলছিল সেক্সটরশন চক্র। তরুণরাই ছিল মূল টার্গেট। পরিচয়ের পর প্রথমে উত্তেজক কথাবার্তা, তারপর মেসেজ আদানপ্রদান। শেষমেশ ভিডিয়ো কলে এসে পরনের পোশাক খুলে ফেলা। মোবাইলের উলটোদিকে থাকা তরুণকেও উত্তেজিত করে বাধ্য করা হত নগ্ন হতে। সেই নগ্ন ভিডিয়োকে পুঁজি করেই শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের অভিযোগ তুলে শুরু হত ব্ল্যাকমেইল। হুমকি দিয়ে চলছিল টাকা আদায়। মানিকতলা এলাকার বাসিন্দা এক তরুণ সেক্সটরশনের ফাঁদে পড়ে খুইয়েছেন লক্ষাধিক টাকা। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে  বারাকপুরের বাসিন্দা এক ছাত্রীকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে মানিকতলা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী তরুণ এক পরিচিতের মাধ্যমে একটি অ্যাপে এন্ট্রি নেন। ওই অ্যাপের ক্যাচলাইন ছিল, ‘ধনী ঘরের তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাইলে এখানে জয়েন করুন। এরজন্য কোনো চার্জ লাগবে না। এখান থেকে দেওয়া হবে সুন্দরী তরুণীদের ফোন নম্বর। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন।’ তবে এই অ্যাপে এন্ট্রি নিতে হলে প্রয়োজন একজনের রেফারেন্স। তরুণ এই অ্যাপের বিষয়টি জানতে পারেন এক পরিচিতের কাছ থেকে। ওই পরিচিত ব্যক্তির রেফারেন্সকে কাজ লাগিয়ে তিনি ওই অ্যাপে জয়েন করেন। অ্যাপ খুললেই তাঁর সঙ্গে কথা হত এক তরুণীর। সে বলেছিল, ‘ আমি তো তোমার মতোই একজনকে খুঁজছিলাম। যাঁকে মনের কথা বলতে পারব।’ কয়েকদিন কাটতে না কাটতেই ওই অ্যাপ থেকে নোটিফেকেশন আসতে শুরু করে। তাতে বলা হয়, তিনি চাইলে তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন। এমনকি, ইচ্ছা হলে ওই তরুণীকে নগ্ন অবস্থায়ও দেখতে পাবেন। তবে টাকার অঙ্কের উপর নির্ভর করবে তিনি কতটা নগ্ন হবেন। কিছুদিন পর মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান হয় তাদের। এরপর ভিডিয়ো কলে কথাবার্তা চলত।  ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য কীভাবে টাকা পেমেন্ট করতে হবে জানানো হয় তাঁকে। সেইমতো তিনি টাকা দিতে থাকেন। তরুণী এরপর ভিডিয়ো কলে এসে উত্তেজক অঙ্গভঙ্গি করতে থাকে। ঘনিষ্ঠ হতে গেলে আরও টাকা দাবি করে। ততদিনে প্রেমে মজে গিয়ে ওই তরুণ ১ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা দিয়ে ফেলেছেন। তারপরও তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হয়। এই অবস্থায় বেঁকে বসে তরুণটি। তিনি আর টাকা দিতে রাজি নন, তা সাফ জানিয়ে দেন। এই সময় তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় টাকা না দিলে তরুণীর সঙ্গে তাঁর অশ্লীল ছবি ভাইরাল করে দেওয়া হবে। এরপর তিনি মানিকতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ তোলাবাজির কেস রুজু করে।

Advertisement

তদন্তে নেমে তরুণীর মোবাইল নম্বর হাতে পায় পুলিশ। সেই সঙ্গে অ্যাপটি কে বা কারা পরিচালনা করছে, সেই তথ্যও জানতে পারে। তার ভিত্তিতে জানা যায়, ওই তরুণী বারাকপুরের বাসিন্দা। এরপরই অণু নামের ওই তরুণীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ভালো ফল করেছিল। তার বিমানসেবিকা হওয়ার ইচ্ছা। তার জন্য একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণও নিচ্ছে সে। তার টাকার দরকার ছিল। এক বান্ধবী তাকে এই অ্যাপে মেম্বার হওয়ার জন্য রেফার করে। সেই সূত্রেই সে ওই অ্যাপে ঢুকেছে। সেখানে যোগ দিয়ে জানতে পারে, এখানে সেক্সটরশন চক্র চলছে। শুধু মেয়েরা নয়, ছেলেরাও এই কাজ করছে। তাদের সবাইকে দিয়ে এভাবেই তোলাবাজি করানো হয়। কিছুদিনের মধ্যেই এই অ্যাপটি  নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে ওই তরুণী। জানা গিয়েছে, অভিযোগকারীর টাকা যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে, সেগুলি ভাড়ার অ্যাকাউন্ট। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ