Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ভূমিকম্পে ধূলিসাৎ একাধিক সরকারি ভবন, রাস্তায় বসেই কাজ

মায়ানমারে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর কেটে গিয়েছে চারদিন। ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে মান্দালয় সহ একধিক শহর। এখনও জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ।

ভূমিকম্পে ধূলিসাৎ একাধিক সরকারি ভবন, রাস্তায় বসেই কাজ
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নেপি দ ও ব্যাংকক: মায়ানমারে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের পর কেটে গিয়েছে চারদিন। ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে মান্দালয় সহ একধিক শহর। এখনও জোরকদমে চলছে উদ্ধারকাজ। এরইমধ্যে মঙ্গলবার নেপি দয় ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে ৬৩ বছর বয়সি এক মহিলাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ৯১ ঘণ্টা ওই অবস্থায় থাকা সত্ত্বেও অক্ষত রয়েছেন তিনি। ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৯৬। আহত চার হাজারের বেশি। এদিন দুপুরে মৃতদের স্মৃতির উদ্দেশে নীরবতা পালন করে প্রশাসন। প্রতি মুহূর্তে উদ্ধার হচ্ছে নিথর দেহ। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। মায়ানমারের পাশাপশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে থাইল্যান্ডও। সোমবার সিমেন্টের চাঁইয়ের তলা থেকে আরও দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ২০। আহত কমপক্ষে ৩৪। 

Advertisement

প্রথমে ৭.৭ মাত্রার কম্পন। তারপর একের পর এক আফটারশক। প্রকৃতির ধ্বংসলীলায় ধুলোয় পরিণত হয়েছে মায়ানমারের বিস্তীর্ণ এলাকা। চারিদিকে শুধুই স্বজন হারানোর কান্না। বদলে গিয়েছে নদীর গতিপথ। পৃথিবী থেকে ৫০০ কিমি উপর থেকে সেই চিত্র তুলে ধরেছে ইসরোর উপগ্রহ কার্টোস্যাট-৩। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়ছে, মধ্য ও উত্তর পশ্চিম মায়ানমারে ১০ হাজারের বেশি বিল্ডিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেপি দতে রয়েছে জুন্টা সরকারের একাধিক বিল্ডিং। সেখানে রয়েছে স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, বিদেশ সহ একাধিক মন্ত্রকের অফিস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভূমিকম্পের জেরে বহু বিল্ডিং ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অনেক জায়গায় ফেটে গিয়েছে দেওয়াল, সিলিং। মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন কর্মীর। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন বহু সরকারি কর্মী। এক আধিকারিকের কথায়, ‘আমাদের বাড়ি বাসযোগ্য নয়। কাজে যেতে পারছি না। রাস্তায় বসেই যাবতীয় কাজ করতে হচ্ছে। শুধুমাত্র পদস্থ কর্মীদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। বাকিদের সেই সুযোগটুকু পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না।’
উদ্ধারকাজে মায়ানমারের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত, রাশিয়া, চীন সহ একাধিক দেশ। বহু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা এখনও বিচ্ছিন্ন। আফটারশকের আতঙ্কে পার্ক ও রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন অসংখ্য মানুষ। মঙ্গলবারও ৪.৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিশুদ্ধ পানীয় জল ও খাবারের পাশাপাশি জরুরি ওষুধের অভাব দেশজুড়ে। গৃহযুদ্ধ বিধ্বস্ত এই দেশে ত্রাণ সরবরাহে অন্যতম বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে জুন্টা সরকার। অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। মূলত বিদ্রোহী অধ্যুষিত অঞ্চলে বেশি সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি ওই সব এলাকায় বিমান হানা চালাচ্ছে সামরিক শাসকরা। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ সহ একাধিক সংগঠন। মান্দালয়ে ত্রাণ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ডাঃ নাং উইন। তিনি বলেন, ‘মান্দালয়ের কিছু জায়গায় ত্রাণ পোঁছতেই পারেনি। জুন্টা সরকার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে।’  ভিটে হারিয়ে রাস্তায় আশ্রয়। মঙ্গলবার মান্দালয়ে। ছবি: এএফপি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ