Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দেবরাজের ঘনিষ্ঠ একাধিক প্রাক্তন কাউন্সিলার রাজসাক্ষী হতে রাজি!

দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে ৩০ কাউন্সিলার রাজসাক্ষী হতে রাজি! তদন্তে নতুন তথ্য আসছে। বিস্তারিত পড়ুন।

দেবরাজের ঘনিষ্ঠ একাধিক প্রাক্তন  কাউন্সিলার রাজসাক্ষী হতে রাজি!
  • ৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: এতদিন যাঁরা ছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তীর ছায়াসঙ্গী, যাঁদের মাথায় ছিল তাঁর হাত, এখন সেই ‘সঙ্গীরা’ই পিঠ বাঁচাতে মরিয়া! তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ‘ভালো তৃণমূল’ হওয়ার চেষ্টাও শুরু করে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, দেবরাজের বিরুদ্ধে যে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণে তাঁরই ঘনিষ্ঠ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলার রাজসাক্ষী হতে পারেন! স্বাভাবিকভাবেই, সঙ্গীরা যদি রাজসাক্ষী হয়ে যান, তাহলে বিপাকে পড়বেন দেবরাজ। কারণ, তাঁদের কাছে বহু তথ্য রয়েছে। ইতিমধ্যে দেবরাজ-ঘনিষ্ঠ প্রায় ৩০ কাউন্সিলার পুলিশের স্ক্যানারে রয়েছেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের কয়েকজনকে পুলিশ জেরা করতে চলেছে, যাতে টাকা পাচারের রুটের সন্ধান মেলে।

Advertisement

বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি বলেন, দেবরাজের ঘনিষ্ঠ ৩০ জন কাউন্সিলারের মধ্যে কয়েকজন রাজসাক্ষী পর্যন্ত হতে চাইছেন! শুধু কাউন্সিলাররাই নন, বিধাননগর পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ার তাঁর দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ছেলের সম্পর্কে খোঁজখবর করলেই আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে। দক্ষিণ কলকাতারও একজন আছেন। আস্তে আস্তে সবটাই সামনে আসবে।
তোলাবাজির অভিযোগে ১ জুলাই পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয় দেবরাজকে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তিনি বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ, রাজারহাট-গোাপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী এবং উত্তর ২৪ পরগনার যুব তৃণমূল সভাপতি। তবে সব ছাপিয়ে তাঁর আসল পরিচয় ছিল তিনি ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ’! শেষ বিধানসভা নির্বাচনে অদিতির সমর্থনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার করে যাওয়ার পরেও এসেছিলেন অভিষেক। যদিও অদিতি জিততে পারেননি। বিপুল ভোটে জিতেছেন বিজেপির তরুণজ্যোতি। তিনি আগাম ঘোষণাই করেছিলেন, ‘দুর্নীতির মাস্টারকে জেলে ভরবই।’
পুলিশ কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, জেরায় দেবরাজ সহযোগিতা করলেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন। তৃণমূল সেনাপতি অভিষেকের সহকারী সুমিত রায়ের গতিবিধি নিয়েও জেরা করা হয়েছে দেবরাজকে। জমি দখল, তোলাবাজি ও অর্থতছরুপ মামলায় সুমিতকে খোঁজা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, দেবরাজের সঙ্গে সুমিতের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দমদমের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি টেনিস কোর্ট নিয়ে দেবরাজের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপের নতুন এক অভিযোগ সামনে এসেছে। বাসিন্দারা বর্তমান বিধায়কের কাছে অভিযোগ করেন যে, আইন ভেঙেই এই টেনিস অ্যাকাডেমি তৈরি করা হয়েছে। জবরদখল করা জমিতে সেটি বানিয়েছেন দেবরাজ অ্যান্ড কোং। ঘনবসতির মধ্যে এই নির্মাণের কারণে বাতাস চলাচল বাধা পাচ্ছে এবং দেখা দিয়েছে নানা নাগরিক সমস্যা। বিধায়ক ওই এলাকাটি পরিদর্শনও করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ