Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একাধিক বিমানঘাঁটি পরিত্যক্ত, ব্যবস্থার দাবি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অবিভক্ত মেদিনীপুর ও তার আশপাশের এলাকায় আটটি জায়গায় অস্থায়ী বিমানঘাঁটি(এয়ারফিল্ড) তৈরি করেছিল ব্রিটিশ সরকার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একাধিক বিমানঘাঁটি পরিত্যক্ত, ব্যবস্থার দাবি
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অবিভক্ত মেদিনীপুর ও তার আশপাশের এলাকায় আটটি জায়গায় অস্থায়ী বিমানঘাঁটি(এয়ারফিল্ড) তৈরি করেছিল ব্রিটিশ সরকার। এর মধ্যে চারটির অবস্থান অধুনা পশ্চিম মেদিনীপুরে। খড়্গপুরের কলাইকুণ্ডা, হিজলির সালুয়া, চন্দ্রকোণা রোডের ডিগ্রি ও শালবনীর কমলা(ঝড়ভাঙা) এলাকায় সেগুলি রয়েছে। বাকি চারটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি ঝাড়গ্রামের দুধকুণ্ডি, বাঁকুড়ার পিয়ারডোবা ও বিষ্ণুপুরের বাসুদেবপুর এবং ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়াতে অবস্থিত।

Advertisement

কলাইকুণ্ডার সেই অস্থায়ী বিমানঘাঁটিই এখন ভারতীয় বায়ুসেনার স্থায়ী বিমানঘাঁটি বা এয়ারফোর্স স্টেশনে পরিণত হয়েছে। সালুয়ার বিমানঘাঁটিও মাঝেমধ্যেই বায়ুসেনা ব্যবহার করে। কিন্তু বাকি সমস্ত বিমানঘাঁটি এখন পরিত্যক্ত। যদিও এগুলি ভারতীয় বায়ুসেনা তথা প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অধীনেই রয়েছে।
চন্দ্রকোণা রোডের ডিগ্রির পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিতে সেই-সংক্রান্ত একটি বোর্ডও আছে। স্থানীয়দের দাবি, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা বিশেষ বিশেষ সময়ে ওই বিমানঘাঁটির উপর দিয়ে বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান চক্কর কাটে। সুদীপ বিশ্বাস, অমল মণ্ডল সহ অন্য বাসিন্দারা বলেন, গতবছর মে মাসে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে বায়ুসেনার যুদ্ধবিমান অনেক নীচুতে চক্কর কাটছিল। তবে শালবনীর বিমানঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। এয়ারফিল্ডের একটা বড় অংশে তৈরি হয়েছে শালবনী টাঁকশাল। শালবনীর শিক্ষক সন্দীপ সিংহ, সমাজকর্মী নূতন ঘোষ জানান, ১৯৪২সালের সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ শালবনীর কমলায় বিমানঘাঁটি চালু হয়েছিল। ১৯৪৩সাল অবধি সেটি চালু ছিল। সেই সময়ের মধ্যেই ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের একটি যুদ্ধবিমান জরুরি অবতরণও করেছিল। ডিগ্রি এলাকার বাসিন্দা শুভাশিস মজুমদার, গড়বেতার শিক্ষক শান্তনু দে বলেন, ১৯৪২ থেকে ১৯৪৬সাল অবধি এই বিমানঘাঁটি চালু ছিল। এসমস্ত বিমানঘাঁটি ঠিকমতো রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে খুব ভালো হত। মেদিনীপুরের বিশিষ্ট গবেষক অরিন্দম ভৌমিক বলেন, অবিভক্ত মেদিনীপুরের এসমস্ত বিমানঘাঁটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এক ব্রিটিশ বন্ধু ও গবেষকের সহায়তায় এগুলি সম্পর্কে অনেক তথ্যই আমি উদ্ধার করতে পেরেছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ