নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: রাজ্যের সমস্ত কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতি পদে স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। এর আগে এই কলেজগুলির পরিচালন সমিতির প্রশাসক হিসাবে স্থানীয় মহকুমা শাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের সরিয়ে সাংসদ বিধায়কদের পরিচালন সমিতির মাথায় বসানো হয়েছে। এতে উত্তরবঙ্গের একাংশ কলেজে আগামী মাসে অধ্যাপকদের বেতন কি করে হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। জানা গিয়েছে, অনেক মহকুমা শাসক দায়িত্ব বদলের পর আর স্যালারি স্লিপে স্বাক্ষর করতে চাইছেন না। এতেই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি উদ্বেগ ছড়ানোয় পাহাড়ের সাত কলেজের অধ্যক্ষ সোমবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিতের সঙ্গে দেখা করেছেন। অনেকে ফোন করে খোঁজ নিচ্ছেন।
স্বপনবাবু বলেন, কলেজের সভাপতি হিসাবে সাংসদ বিধায়কদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুনেছি অনেক মহকুমা শাসক প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর করতে চাননি। আবার অনেক জায়গায় সাংসদ, বিধায়কেরা দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। পাহাড়ের বেশ কয়েকটি কলেজের অধ্যক্ষ আমার সঙ্গে দেখা করে এই বিষয়ে পর্যালোচনা করেছেন। পরামর্শ চেয়েছেন। এই বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তবে কলেজের এই সমস্ত বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো হাত নেই।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৫২টি কলেজ রয়েছে। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুসারে সব কলেজে প্রশাসক হিসাবে মহকুমা শাসক ও প্রশাসনিক
আধিকারিকেরা ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই নির্দেশিকার বদলে সেখানে সাংসদ ও বিধায়কদের মতো জনপ্রতিনিধিদের বসানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, যে নির্দেশিকা বলে তাঁদের বসানো হয়েছে সেখানে ‘উইথ ইমিডিয়েট এফেক্ট’ কথাটি লেখা রয়েছে। ফলে যে প্রশাসকরা এতোদিন কলেজগুলির দায়িত্বে ছিলেন তাঁদের একাংশ বেতন সংক্রান্ত কাজগপত্রে স্বাক্ষর করতে চাইছেন না। এতেই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে একটি কলেজ সূত্রে আবার জানা গিয়েছে, তাঁরা সমস্ত কাগজপত্রই আগে থেকে তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন। ফলে তাঁদের অধ্যাপকদের বেতন দিতে কোনো সমস্যা হবে না।