নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ব্যান্ডেলের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দিলীপ রামকে প্রকাশ্যে গুলি করে খুনের মামলায় সাতজন দোষী সাব্যস্ত হল। ২০১৯ সালের ওই খুনের মামলায় চুঁচুড়া আদালতের দায়রা বিচারক (তৃতীয় কোর্ট) কৌস্তভ মুখোপাধ্যায় এই রায় দিয়েছেন। আজ, বুধবার দোষীদের সাজা শোনাবেন বিচারক।
ব্যান্ডেল স্টেশনের ভিতরে হওয়া খুনের ঘটনায় সেই সময় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল। হুগলির একমাত্র ‘মহিলা ডন’ সমুন্দ্রী ওরফে শকুন্তলা যাদবের নাম প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ অবশ্য সমুন্দ্রী ও তার ছেলে আজাদকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে সমুন্দ্রীর আরেক ছেলে মঙ্গল যাদবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জমিবিবাদের জেরে সমুন্দ্রী সুপারি কিলার দিয়ে দিলীপকে খুন করিয়েছিল।
মামলার সরকারি আইনজীবী শঙ্কর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, জমি দখলের প্রতিবাদ করাতেই পথের কাঁটা সরাতে ময়দানে নেমেছিল সমুন্দ্রী। দু’জন গ্রেপ্তার না হলেও ন’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারমধ্যে সাতজনকে আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছে। আশা করছি, বিচারক দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেবেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, যে দুষ্কৃতী গুলি চালিয়েছিল তাকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। তার আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই গুলি চালানোর বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এদিন রায় ঘোষণার পরে দিলীপ রামের স্ত্রী তথা ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের তদানীন্তন প্রধান ঋতু যাদব বলেন, সমুন্দ্রী ও তার ছেলে ধরা পড়ুক। সেটাই চাই। এদিনের রায়ে আমি খুশি। এবার দৃষ্টান্তমূলক সাজা হোক।
২০১৯ সালের ২৯ জুন। সময় সকাল ৯টা। গোটা ব্যান্ডেল স্টেশন থমকে গিয়েছিল। আচমকা গুলির শব্দ। তারপরেই দেখা যায়, রেললাইনের উপরে লুটিয়ে পড়েছেন সেই সময়ের পরিচিত যুব তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম। বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়াতেই ভিড় জমতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুষ্কৃতীরা শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। সেই ঘটনা স্তম্ভিত করে দিয়েছিল ব্যান্ডেলকে। পেশায় রেলকর্মী দিলীপ প্রতিদিন নৈহাটি লাইনের ট্রেন ধরতে সকাল সকাল রেললাইন পেরিয়ে প্ল্যাটফর্মে উঠতেন। মাথায় গুলি লাগার পরেও কিছু সময় বেঁচে ছিলেন দিলীপ। কলকাতায় চিকিৎসা করাতে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ‘লেডি ডন’ সমুন্দ্রীর ভূমিকার কথা। জানা যায়, ব্যান্ডেল মোড়ে সমুন্দ্রীর একটি লজ ছিল। তার সামনের দশ কাঠা জমি হাতিয়ে নিতে চেষ্টা করছিল ওই লেডি ডন। জমির মালিক শাসকদলের জনপ্রিয় যুবনেতা দিলীপের দারস্থ হলে তিনি রুখে দাঁড়ান। তারপরেই দিলীপকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ৩ লক্ষ টাকায় সুপারি কিলার এনেছিল সমুন্দ্রী ওরফে শকুন্তলা। এবার অপেক্ষা সাজা ঘোষণার। নিজস্ব চিত্র