Bartaman Logo
২৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিন্ডিকেটে ধাক্কা, ফ্ল্যাটের দাম কমবে নিউটাউনে?

নিউটাউনে সিন্ডিকেটের ভাঙনে ফ্ল্যাটের দাম কমার সম্ভাবনা। সাধারণ মানুষ জানাচ্ছে, দাদাদের দাপট কমেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সিন্ডিকেটে ধাক্কা, ফ্ল্যাটের দাম কমবে নিউটাউনে?
  • ২৪ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিউটাউনে সিন্ডিকেটের মাথারা গিয়েছেন জেলে। কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বটে কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। সবমিলিয়ে নিউটাউনে কার্যত কোমর ভেঙেছে কুখ্যাত সিন্ডিকেটের। এই অবস্থা তৈরি হওয়ার পর সাধারণ মানুষ এখন বলছেন, ‘দাদাদের দাপট বন্ধ হয়েছে। বেশি দাম দিয়ে আর সিমেন্ট-বালি-ইট কিনতে হবে না। তাহলে ফ্ল্যাটের দাম নিশ্চয় কমবে।’

Advertisement

বালিগড়ির মাঝারি মাপের এক সিন্ডিকেট নেতার কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাঁর উত্তর, ‘আগে যে সিস্টেমে চলত ভোটের পরও কেনাবেচা সে সিস্টেমই চলছে। দাদারা প্রত্যক্ষভাবে খুব একটা জড়াচ্ছেন না। কিন্তু যে প্রমোটারদের সঙ্গে আমাদের বালি-পাথর দেওয়ার যে কন্ট্রাক্ট হয়ে রয়েছে তা বাতিল হয়নি। তবে নতুন করে বিল্ডাররা আমাদের সঙ্গে আর কন্ট্রাক্ট করবেন কি না আমরা জানি না। ব্যবসা ভালো জায়গায় নেই।’
নিউটাউনে আগে পার্টির ছত্রছায়ায় সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করত সিন্ডিকেট। রাজ্যে পালাবদলের পর পার্টির নেতাদের হাত আর মাথার উপর নেই। ফলে অথই জলে পড়েছেন দাদারা। সিন্ডিকেটের যে দাদাদের দাপটে কিছুদিন আগেও বাঘে-গোরুতে একঘাটে জল খেত, সেই দাদারা তোলাবাজির অভিযোগে দলে দলে ঢুকছেন জেলে। ফলে সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দেওয়ার কেউ সেভাবে থাকছেন না। এভাবে ধীরে ধীরে ধসছে কয়েকশো কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা।
সিন্ডিকেটের এই হাল সামনে আসা মাত্র কৌতূহল শুরু হয়েছে ফ্ল্যাটের দাম নিয়ে। সাধারণ মানুষ নিউটাউন এবং উপনগরী সংলগ্ন অঞ্চলে ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে। ‘দাম কি কমল?’ সবার মুখে একটাই প্রশ্ন। তবে নিউটাউন এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কাজ করেন যে বিল্ডার বা প্রমোটাররা তাঁরা বলছেন, ‘এখনও দাম কমার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বিজেপির জমানায় জল কোনদিকে গড়ায় সে দিকে নজর রয়েছে।’ এর পাশাপাশি তাঁদের একাংশ জানালেন, নয়া কিছু সমস্যার উদ্ভব হয়েছে। যার ফলে নিউটাউন সংলগ্ন রাজারহাট পঞ্চায়েত বা বিধাননগর পুরসভা এলাকার অধিকাংশ নির্মীয়মাণ ফ্ল্যাট তৈরির কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন সরকার নির্মাণের ক্ষেত্রে কোন পন্থা নেবে তা বোঝা যাচ্ছে না। ফলে আইনি জটিলতা আটকাতে ফ্ল্যাট তৈরির কাজ বন্ধই রেখেছেন অধিকাংশ প্রমোটার। এর ফলে দেখা দিয়েছে নয়া সমস্যা। বহু ক্রেতা আগাম দিয়ে দিয়েছেন নির্মাণকারীকে। কাজ বন্ধ বলে তাঁরা পড়েছেন সমস্যায়। পাশাপাশি প্রমোটাররাও অর্ধেক কাজ করে ফেলে রেখেছেন বলে তাঁদের মূলধন রয়েছে আটকে। এ সমস্যা অবশ্য মূল নিউটাউনের ক্ষেত্রে সেভাবে হয়নি। হয়েছে উপনগরী সংলগ্ন অঞ্চলে।
নিউটাউনে সিটি সেন্টারের গা লাগোয়া বিধাননগর পুরসভা অঞ্চলে ১ বছর আগে একটি ফ্ল্যাট বুক করেছিলেন সৌরভ দাস। তিনি ১০ লক্ষ টাকা আগাম দিয়েছিলেন। এখন বাড়ি তৈরির কাজ বন্ধ রেখেছেন প্রমোটার। এদিকে সৌরভবাবুকে বর্তমানে তাঁর যে বাসস্থান সেই ভাড়াবাড়িটি ছাড়তেই হবে। সৌরভবাবু পড়েছেন ভয়ঙ্কর বিড়ম্বনায়। পাশাপাশি প্রমোটারও আতান্তরে পড়ে হাতেপায়ে ধরে অপেক্ষা করতে অনুরোধ করছেন। প্রায় এরকম দশা অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতার।
সবমিলিয়ে নিউটাউন ও সংলগ্ন এলাকায় নতুন ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছে। উল্টোদিকে সিন্ডিকেট ক্রমে শেষের পথে। আর ক্রেতারা অপেক্ষায়, সিন্ডিকেটের দৌড়াত্ম্য পুরোপুরি বন্ধ হোক। দাম কমুক ফ্ল্যাটের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ