নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে দিনভর কর্মবিরতি পালন করলেন চুঁচুড়ার পুরকর্মীরা। তার জেরে পুরসভার নাগরিক পরিষেবা দিনভর বেহাল থাকল মঙ্গলবার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এদিন পুরকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করলেও তাতে কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারী ও বিধায়কের পারস্পরিক হুংকারে কার্যত ভেস্তে গিয়েছে বৈঠক। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুর প্রশাসন বৈঠকে ‘কর্মী ছাঁটাই’-এর শর্ত রেখেছে। কিন্তু তা পত্রপাঠ নাকচ করে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। ফলে, সহজে পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের মজুরি বিবাদ মেটার কোনো ইঙ্গিত মিলছে না। ফলে পুজোর মুখে শহরে নাগরিক পরিষেবার হাঁড়ির হাল হওয়াই এখন ভবিতব্য।
এদিন সকাল থেকেই চুঁচুড়া পুরসভার অন্দরে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন অস্থায়ী পুরকর্মীরা। প্রায় আড়াই হাজার কর্মী এদিন পুরসভায় এলেও হাজিরার খাতায় সই করেননি। আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা সিপিএমের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা বকেয়া মজুরি না পাওয়ায় আন্দোলনে শামিল হয়েছি। খাটনির পয়সা চেয়েছি, অথচ বলা হচ্ছে, আমরা নাকি ব্ল্যাকমেইল করছি। পাঁচ মাসের মজুরি বকেয়া। তাসত্ত্বেও আমরা এতদিন পরিষেবার কাজ চালিয়ে গিয়েছি। যে সামান্য টাকা মজুরি বাবদ আমরা পাই, তা পাঁচ মাস বকেয়া থাকলে সংসার চলবে কী করে? মজুরি মেটানোর বদলে অবাস্তব শর্ত চাপিয়ে আমাদেরই উলটে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে, আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ নেই।
এদিন পুরকর্মীদের সঙ্গে পুর প্রশাসনের জটিলতা মেটাতে পুরসভায় এসেছিলেন বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ। আন্দোলনকারীরা নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকার বিষয়টি ঘোষণার পর তিনি বলেন, তৃণমূল অবৈধ কর্মী তৈরি করে সমস্যা পাকিয়ে গিয়েছে। আমরা মানবিকভাবে তা মেটানোর চেষ্টা করছি। এই অবস্থায় কেউ যদি ভাবেন, পুরসভাকে অচল করে টাকা দাবি করব, তাহলে আমরাও কঠোর সিদ্ধান্ত নেব। আমরা জানি, কীভাবে পুরসভা চালিয়ে নাগরিকদের পরিষেবা দিতে হয়।
অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া মঙ্গলবার সকাল থেকে অন্যান্য পরিষেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন কর্মীরা। আন্দোলনের প্রথম দিনেই সংকটে পড়তে হয়েছে নাগরিকদের। এদিন পুরসভা এলাকায় থমকে যায় সাফাই কাজ। দিনভর জঞ্জাল সাফ হয়নি। যদিও পুরসভা সূত্রে দাবি, কয়েকজন কর্মী সাফাই পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। দুপুরের পরে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পরিষেবা আদৌ স্বাভাবিক হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বাসিন্দারা।
আন্দোলনকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিনের বৈঠকে পুরসভার প্রায় ৬০০ অস্থায়ী কর্মীকে বসিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে পুরকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রসঙ্গত, পুরসভার অস্থায়ী কর্মীদের কারও পাঁচ মাস, কারও তিন মাসের মজুরি বকেয়া রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুজোর মুখে মজুরির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন তাঁরা। আর তাতে ভেঙে পড়েছে চুঁচুড়া শহরের নাগরিক পরিষেবা।