


নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: রাস্তাঘাট, বাড়িঘর জলে থই থই করছে। জল ঢুকেছে অনেক স্কুলেও। সোমবার থেকে পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে খানাকুলের একাধিক হাই স্কুলে পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। বহু প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ছুটি ঘোষণা করেছে। কার্যত খানাকুলে পঠনপাঠন শিকেয় উঠেছে। বাসিন্দারাও ঘোর দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
রূপনারায়ণের জলস্তর কিছুটা কমলেও এখনও বিপদসীমার উপরেই বইছে নদ। তার ফলে আতঙ্কে রয়েছেন নিচু এলাকার বাসিন্দারা। খানাকুল ২ ব্লকের মারোখানা, জগৎপুর, রাজহাটি ১ ও ধান্যঘোরী পঞ্চায়েতের বহু ছোট ছোট রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। তার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই সোমবার থেকে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের দ্বিতীয় পর্যায় ক্রমিক মূল্যায়ন শুরু হওয়ার কথা ছিল। জলমগ্ন পরিস্থিতির জন্য পরীক্ষা পিছিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ, পড়ুয়া ও অভিভাবকরা।
মারোখানা হাই স্কুলে এদিন থেকেই পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতির কথা চিন্তা করে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দেবাশিস বেজ বলেন, বিগত কয়েক সপ্তাহে জলমগ্ন পরিস্থিতির জন্য স্কুল ছুটি দিতে হয়। তাই সিলেবাস শেষ করে এদিন থেকে পরীক্ষার সূচি ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু স্কুল এখনও জলমগ্ন। গ্রামগুলিতেও জল রয়েছে। তাই পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা ভেবে স্কুল বন্ধ রেখে পরীক্ষার স্থগিত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে মনে হচ্ছে না।
রামচন্দ্রপুর আদর্শ বিদ্যাভবনেও জল ঢুকে গিয়েছে। সেখানে গত সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার দু’টি বিষয়ের পরীক্ষা হয়। কিন্তু এদিন থেকে বাকি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর ঘোষ বলেন, রাস্তায় কোমর সমান জল। তাই বাকি পরীক্ষাগুলি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি দেখে বুধবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, খানাকুল ২ ব্লকের জগৎপুর হাই স্কুল খোলা থাকলেও পরীক্ষা স্থগিত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফেলুরাম সিং বলেন, স্কুলে এখনও জল ঢোকেনি। কিন্তু বিভিন্ন গ্রামের রাস্তায় জল রয়েছে। তাই পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে সমস্যার কথা ভেবে পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছে।
খানাকুল ২ এর অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সহেলি মান্না বলেন, যেসব জায়গায় জল রয়েছে সেখানে স্কুল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। খানাকুল ২ ব্লকে প্রায় ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ। কিছু হাই স্কুলেও পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। পরিস্থিতির রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবারও ডিভিসি ৬৫ হাজার ৩২৫ কিউসেক হারে জল ছেড়েছে। তার ফলে মুন্ডেশ্বরী, দামোদর নদীতে জলস্তর বিপদসীমায় না পৌঁছলেও সেগুলি ফুঁসছে। দ্বারকেশ্বর নদের জল অবশ্য কমছে। এদিন সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় আরামবাগে বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৭.২৫ মিলিমিটার। এদিন খানাকুল ১ ব্লক প্রশাসনের তরফে ঘোষপুর পঞ্চায়েত এলাকায় দুর্গত বাসিন্দাদের শুকনো খাবার বিলি করা হয়। খানাকুল ২ ব্লক প্রশাসনও জগৎপুর এলাকার জন্য ত্রিপল ও শুকনো খাবার পাঠিয়েছে বলে বিডিওরা জানিয়েছেন।
হুগলি জেলা সেচদপ্তরের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবেন্দ্র সিং বলেন, আপাতত বাঁধের নির্মাণ থমকে রয়েছে। বৃষ্টি না হলে ও জল নামলে ফের কাজ শুরু হবে। আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।