অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: পুজোর সাজে সেজে উঠছে সাবেক ডেনিস কলোনি শ্রীরামপুর। বাতাসে শিউলি গন্ধের বাড়বাড়ন্তের সঙ্গে শতদলের মতো বিকশিত হচ্ছে তার নয়া রূপ, পুজোকালীন রূপটান। এঁদো গলিও এখন থিমপুজোর কারণে মোহন রাজপথ। থিমের দাপট এমনই। বিগ বাজেটের পুজো তো বটেই ছোটো ও মাঝারি পুজোও ঢুকে পড়েছে থিমের বলয়ে। ফলে রহস্য রোমাঞ্চ গল্পের মতো প্রতিপদে চমকের পসরা সাজিয়ে বসছে গঙ্গাপাড়ের সাবেক ইউরোপীয় কলোনির অলিগলি-রাজপথ। রাতের আধাঁরে গঙ্গার প্রবাহে পড়ছে সেই চমকের প্রতিবিম্ব। অচেনা হয়ে উঠছে জলরাশির চেনা স্রোতও।
১০৩ বছরে পা রেখেছে চাতরা দোলতলার পুজো। থিমের ময়দানে হাতেখড়ি হয়েছে আগেই। শতবর্ষ প্রাচীন পুজোতে এবার বাংলা ও বাঙালির পার্বণকে সামনে রেখে থিমের চমক জাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। থিমের নাম, বাঙালির বারোমাস্যা। নামে মঙ্গলকাব্যের ছোঁয়াচ থাকলেও দুঃখের সাতকাহন নয়, আনন্দের উপনিবেশ গড়ে তুলতে চেয়েছেন উদ্যোক্তারা। বাঙালির বারোমাসে তেরো পার্বণ। সে সবেরই ঝলক দেখা যাবে মণ্ডপসজ্জায়। দীর্ঘপথজুড়ে বৈশাখ থেকে উৎসবের পালা দেখাতে দেখাতে মণ্ডপে আনা হবে দর্শকদের। সেখানেই বিরাজমান থাকবেন দেবী দুর্গা, বাঙালির সবচেয়ে বড়ো উৎসবের মঞ্চে আবির্ভূতা হবেন উমা। পুজোর আখ্যানকাব্য, তাই দেবীও থাকবেন সাবেক সাজে। টানা চোখ, শোলার নয়নাভিরাম সজ্জায় মৃন্ময়ীদেবীর মণ্ডপ ঘিরে থাকবে আলোর খেলা। আর থাকবে ক্যালেন্ডার। প্রতিমাসের উৎসবগুলিকে চিহ্নিত করতে থাকবে ক্যালেন্ডারের সাজ। পুজো উদ্যোক্তা পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দেবীদুর্গার পুজোর নিজস্ব ধারা আছে বাঙালির। আর আছে তেরো পার্বণের সুর। তারই এক অনিন্দ্য সমাবেশকে আলোক-বর্ষামুখর করে হাজির করব আমরা।
দেবী দুর্গা হিমালয়কন্যা, কৈলাশপতির ঘরনি। বাঙালির উমাকে তাই কৈলাশেই এনে দর্শকদের সামনে আনতে চাইছে নেহেরুনগর সর্বজনীন। প্রায় ৮০ ফুটের হিমালয় পর্বত ইতিমধ্যেই গজিয়ে উঠতে শুরু করেছে সাবেক ডেনিস কলোনির পায়ে হাঁটা পথে। সেই পাহাড়ের পাকদণ্ডি ধরে ধরে শিখরে গিয়ে দেবীদর্শন করতে হবে আগ্রহীদের। পৌরাণিক ভাবনা প্রেরিত থিম হলেও দেবী থাকবেন আধুনিক সাজে। ৭৭ বছরের পুজোর আয়োজনে থাকবে আলোর বিশেষ রোশনাই। পুজো উদ্যোক্তা প্রবীণ ভরত মুখোপাধ্যায় বলেন, বাঙালিয়ানা, থিমপুজোর ধারা আর পুরাণকে এক সূত্রে গাঁথছি আমরা। আলোর সাজও হবে চমকদার।
বিবিধের মাঝে মিলনের সুরই ভারতীয়, বাঙালির সংস্কৃতির মূল কথা। সেই ভাব ও ভাবনাকেই থিমের আদলে ধরে পুজোর আয়োজনে মেতেছে ক্ষেত্রমোহন শা সূর্যসঙ্ঘ মাঠের পুজো উদ্যোক্তারা। সপ্তসুরের মতো করে ধর্ম ও সংস্কৃতির অনাবিল মেলবন্ধনে ক্লাবের থিম, ঐক্যতান। একগুচ্ছ মডেল, বিরাট আয়তন মাঠজুড়ে থিমের পসরা সাজাচ্ছেন উদ্যোক্তারা। পুজোর এবার ৫০বছর। তাই প্রথমবার থিমপুজো এবং বিশেষ থিমের বিন্যাস। পুজো উদ্যোক্তা বিবেকানন্দ মজুমদার বলেন, আধুনিক ও সাবেকিয়ার মিশেলে হবে প্রতিমা। আর আলোকসজ্জা থাকবে থিমকে আশ্রয় করে। নিজস্ব চিত্র