Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তৃণমূল নেতা খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, প্রধানের ছত্রছায়ায় এলাকায় দাদাগিরি!

মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সঞ্জয় বর্মন খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ, সঞ্জয় সহ বেশ কয়েকজন মিলে এলাকায় গড়ে তুলেছিল একটি বাহিনী।

তৃণমূল নেতা খুনে চাঞ্চল্যকর তথ্য, প্রধানের ছত্রছায়ায় এলাকায় দাদাগিরি!
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সঞ্জয় বর্মন খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ, সঞ্জয় সহ বেশ কয়েকজন মিলে এলাকায় গড়ে তুলেছিল একটি বাহিনী। তৃণমূলের একাংশেরই দাবি, পঞ্চায়েত প্রধান পরেশচন্দ্র বর্মনের ছত্রছায়ায় এরা বেড়ে উঠছিল। এলাকায় দাদাগিরি শুরু করেছিল। প্রধানের বাড়ি সংলগ্ন মোড়ে প্রায় বসাত মদ্যপানের আসর। প্রধানের ‘হাত’ মাথার উপরে থাকায় এলাকায় সালিশির নামে টাকা আদায় করত। অবৈধভাবে মাটি কাটাদের কাছ থেকে মোটা অর্থ তুলত। সন্ধ্যার পর সেই টাকায় চলত মোচ্ছব। 

Advertisement

যদিও জোরপাটকির প্রধান পরেশচন্দ্র বর্মন বলেন, সঞ্জয় আমার সঙ্গে ঘুরত। তবে ছেলেটি আমার সামনে কখনও মদ খায়নি। আমি কাউকে মদ খাওয়ার জন্য টাকা দিই না। সঞ্জয়ের খুন হয়ে যাওয়ার পর থেকে আমাকে বদনাম করছে কেউ কেউ। 
যেদিন সঞ্জয় খুন হন সেদিনও তিনি মদ্যপান করেছিলেন, এমনটাই দাবি তাঁর পরিচিতদের। যাঁর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ, সেই অজয় বর্মনও এলাকায় বদমেজাজি বলেই পরিচিত। খুনের দিন সন্ধ্যা থেকে অজয় মদ্যপান করেছিল। পরিচিত এক-দু’জনের বাড়ির সামনে গিয়ে গালিগালাজও করেছিল। তারপর এসেছিল পঞ্চায়েত অফিসের সামনের ওই মোড়ে। এদিকে, সঞ্জয় প্রধানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় স্থানীয় প্লাইউড মিলে কাজেও যেতেন না নিয়মিত। বাড়ির সামনে একটি কংক্রিটের রাস্তার কাজ হয়েছে। প্রধানের বদান্যতায় সেই রাস্তার কাজ দেখাশোনা করার জন্য তাঁকে রাখা হয়েছিল। 
সঞ্জয়ের পরিবারের লোকজনের দাবি, রাজনীতি ও মদ্যপানের বিষয়টি নিয়ে অনেকবার সঞ্জয়কে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কারও কথাই শোনেনি। অজয় ও মন্টু মিলে যখন মদ্যপ অবস্থায় বচসায় জড়ায় সেই সময়ে সেখানে পৌঁছন সঞ্জয়। তিনিও মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। দু’জনের ঝগড়া বন্ধ করতে শাসানি দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অজয়। ব্যাগ থেকে লোহার রড বের করে মাথায় আঘাত করে সঞ্জয়ের। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সময়ে সেখানে বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সবাই মদ্যপ অবস্থায় থাকায় কিছু বোঝার আগেই এই হামলার ঘটনা ঘটে যায়। এলাকার তৃণমূল নেতাদের একাংশ বলছেন, প্রধান নিজের স্বার্থের জন্য বেশকিছু লোককে মদ খাইয়ে পাশে রেখেছে। সেই মদের কারণেই মৃত্যু হয়েছে সঞ্জয়ের। 
এদিকে, মৃত সঞ্জয়ের ভাই মিঠুন বর্মন বলেন, দাদা পার্টিতে ঢোকার পর মদের নেশায় আসক্ত হয়ে পড়েছিল। ও প্রধানের ঘনিষ্ঠ ছিল। আমরা এসব নিয়ে অনেকবার বাধা দিয়েছি। কিন্তু কোনও কথাই শোনেনি। দাদা প্লাইউড মিলে শ্রমিকের কাজ করত ঠিকাদারের অধীনে। বাড়ির পাশে রাস্তার কাজের দেখভালের জন্য কয়েকদিন মিলে যায়নি। 
মাথাভাঙার মহকুমা পুলিস আধিকারিক সমরেন হালদার বলেন, জোরপাটকির খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মৃত ব্যক্তি মদ্যপান করেছিলেন কি না, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে। বেআইনি মদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ