সংবাদদাতা, ঘাটাল: ফের ঘাটাল আদালতের এক আইনজীবীর ‘জালিয়াতির’ ঘটনা প্রকাশ্যে এল। বিচারকদের সামনে ঘাটাল আদালতে এক শ্রেণির আইনজীবীদের ‘জালিয়াতি’ ক্রমশ বাড়তে থাকায় উদ্বিগ্ন বেশিরভাগ আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ। ঘাটাল আদালতের এক বর্ষীয়ান আইনজীবী দেবকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, অপরাধী জেনেও পেশার কারণে আইনজীবীরা তাদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন, এটাই আইনজীবীদের পেশার অঙ্গ। কিন্তু আইনজীবীরা আদালতের সঙ্গে জালিয়াতি করবেন, এ কখনোই প্রত্যাশা করা যায় না। দেবকুমারবাবুর সংযোজন, ঘাটাল মহকুমা আদালতে আইনজীবীদের জালিয়াতির একের পর এক ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় আমাদের খারাপ লাগছে। সাধারণ মানুষও স্তম্ভিত! তিনি বলেন, শুক্রবার এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে এক জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে উঠে এসেছে,যা শুনলে অনেকেই চমকে যাবেন।
দাসপুরের বাসিন্দা এক মহিলার সঙ্গে কলকাতার ঠাকুরপুকুরের বাসিন্দা ঋকময় সামন্তর বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে ঘাটাল আদালতে। ঋকময় বেঙ্গালুরুতে কর্মরত। অভিযোগ, মামলার পরবর্তী শুনানিতে যাতে একতরফা রায় জোগাড় করা যায়, তার জন্য মেয়ে পক্ষের যোগসাজশে জালিয়াতির আশ্রয় নেন ঘাটাল আদালতের এক আইনজীবী। দেওয়ানি বা সিভিল মামলায় অনেক ক্ষেত্রেই বিবাদীপক্ষকে সশরীরে আদালতে উপস্থিত হতে হয় না। শুধু আইনজীবীর সই করা নথির মাধ্যমেই হাজিরা দেওয়া যায়। এই সুযোগেই ওই আইনজীবী সম্পূর্ণ জালিয়াতি করে আদালতে ভুয়ো হাজিরা দেখান। তিনি ঋকময়ের একটি ভোটার কার্ডের জেরক্স জোগাড় করে, তাতে ঋকময়ের জাল সই করিয়ে নিজেই তাঁর হয়ে আদালতে হাজিরা দেখিয়ে ওই মহিলার অনুকূলে এক তরফা রায় পাওয়ার প্রক্রিয়া শুধু করেন। ঋকময় বিষয়টি আদালতের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানতে পেরেই অন্য এক আইনজীবীর শরণাপন্ন হতেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এদিকে ওই মহিলার আইনজীবী বলেন, যা বলার বার অ্যাসোসিয়েশনে জানাব। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে ঘাটাল আদালতের অন্য এক আইনজীবী বরুণ শাসমলের বিরুদ্ধেও এমন জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। তিনি আদালতকক্ষে প্রকৃত অভিযুক্তকে হাজির না করে অন্য এক ব্যক্তিকে ‘অভিযুক্ত সাজিয়ে’ আদালতে হাজির করিয়ে পকসো মামলায় জামিনের ব্যবস্থা করেছিলেন। ওই ‘জালিয়াতি’র বিষয়টি আদালত জানতে পারে। এই ধরণের ঘটনা প্রায়ই আদালতে ঘটায় অন্য বরিষ্ঠ আইনজীবীরা সরব হয়েছেন।
দেবকুমারবাবু বলেন, কোথাও একটা বাঁধন আলগা হয়ে যাওয়ার জন্যই ঘাটাল আদালতে এই ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এভাবে কেউ রেকলেস কাজ করবেন, কারওর সই জাল করে আদালতে পেশ করবেন তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ঘাটালের ক্রিমিনাল কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সমীর ঘোষ বলেন, আইনজীবীদের এই ধরনের কাজে আমাদের মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে। সদস্যদের সঙ্গে মিটিং করেই তাঁরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।