এবার ঝাড়গ্রামের কলাবনীর জঙ্গলে সেলফি জোন, পর্যটকদের নয়া আকর্ষণ
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: শহরের দক্ষিণ প্রান্ত পেরোলেই শুরু কলাবনীর জঙ্গল। দু’পাশে সারি সারি শাল-পিয়ালের গাছ। ঘন পাতার ফাঁক গলে মাটিতে এসে পড়ে সূর্যের আলো। জঙ্গলের বুক চিরে চলে গিয়েছে ৫ নম্বর রাজ্য সড়ক। মাঝেমধ্যেই এই রাস্তায় দেখা মেলে বুনো হাতির পালের। ঝাড়গ্রাম শহরের প্রবেশদ্বার কলাবনীর সেই মনোরম জঙ্গল এবার পেতে চলেছে নতুন পর্যটন আকর্ষণ। সত্যজিৎ রায়ের লেখা ‘বাদশাহী আংটি’ ছবির শুটিং হওয়া জঙ্গলেই  হচ্ছে সেলফি জোন।

Advertisement

ঝাড়গ্রাম বেড়াতে এসে কলাবনীর জঙ্গলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে নেমে পড়েন জঙ্গলের রাস্তায়। সবুজ শালবনের সামনে দাঁড়িয়ে তোলেন ছবি। জঙ্গলের ভিতরে রয়েছে বুনো হাতির আনাগোনা, বিষধর সাপের ভয়‌। পথ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। ফলে যত্রতত্র গাড়ি থামিয়ে পর্যটকরা জঙ্গলে ঢুকে যান। পর্যটকদের নিরাপদে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ করে দিতে সেলফি জোন তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 
ঝাড়গ্রাম শহর পেরোলে দু’পাশেই এই জঙ্গল। রাস্তা থেকে কিছু দূরে সেলফি জোন তৈরির কাজ চলছে।  ঝাড়গ্রামের বিধায়ক চারটি জায়গায় সেলফি পয়েন্ট তৈরির জন্য বন দপ্তরের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। পুজো মিটতেই কলাবনীর জঙ্গলে শুরু হয়েছে সেলফি জোন তৈরির কাজ। বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, লোধাশুলি থেকে ঝাড়গ্রাম শহর পর্যন্ত রাস্তার দু’পাশে জঙ্গলের অপূর্ব সৌন্দর্য রয়েছে। সেই সৌন্দর্যের টানে পর্যটকরা বিভিন্ন জায়গায় গাড়ি দাঁড় করান। দুর্ঘটনা এড়াতে চার জায়গায় সেলফি পয়েন্ট তৈরির জন্য বন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। প্রতিশ্রুতি মতো কলাবনীর জঙ্গলে কাজ শুরু হয়েছে। এই সেলফি জোনে থাকবে ‘ঝাড়গ্রাম’ লেখা বড়ো সাইনবোর্ড। পাশাপাশি কৃত্রিম বন্যপ্রাণীর মডেল ও বিভিন্ন ধরনের স্টলও থাকবে। ঝাড়গ্রাম জেলা হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মধুসূদন কর্মকার বলেন, কলাবনীর জঙ্গলে বেশ কয়েকটি বিখ্যাত বাংলা সিনেমার শুটিং হয়েছে। সেই কারণে কিছু পর্যটক এখানে আসেন। সেলফি জোন হলে আরও বেশি পর্যটক আকৃষ্ট হবেন। বিধায়ক ও বন দপ্তরেরর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছি। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের এক আধিকারিকের কথায়, কলাবনীর জঙ্গলে সেলফি জোন তৈরির কাজ চলছে। তিন-চার দিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুত পর্যটকদের জন্য সেলফি জোন চালু হয়ে যাবে। পাশাপাশি পর্যটকরা যাতে নির্দিষ্ট সেলফি জোনের মধ্যেই থাকেন, সেদিকেও নজর রাখা হবে।ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ীর সদস্য বিক্রমাদিত্য মল্লদেব বলেন, সন্দীপ রায় রাজবাড়ি ও কলাবনীর জঙ্গলের মধ্যে বাদশাহী সিনেমার শুটিং করেছিলেন। কলাবতী জঙ্গল দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন।  শুটিং স্থলে সেলফি জোন এবার পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু  হয়ে উঠবে ।