সীমান্তবর্তী এলাকায় বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের ছক বানচাল পুলিশের
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সীমান্তে অর্থ পাচারের একটি বড় ছক ভেস্তে দিল জঙ্গিপুর পুলিশ জেলা। নির্দিষ্ট ও গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার মধ্যরাতে চালানো এক ঝটিকা অভিযানে জঙ্গিপুর ফাঁড়ির পুলিশ ৩০ লক্ষ টাকা সহ এক যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম আসিফ রহমান। তার বাড়ি রঘুনাথগঞ্জ থানার তেঘরী বিশ্বাস পাড়া এলাকায়। ধৃতের কাছ থেকে নগদ টাকার পাশাপাশি দুটি সর্বাধুনিক স্মার্টফোন এবং যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একটি স্কুটার জব্দ করা হয়েছে। রবিবার ধৃতকে জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement

জঙ্গিপুরের এসডিপিও লক্ষ্মণপ্রতাপ চৌধুরী বলেন, নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ এক যুবকের হেপাজত থেকে ৩০ লাখ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে। গভীর রাতে টাকাগুলো হস্তান্তরের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই টাকার উৎস কী, কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শনিবার গভীর রাতে এই অপারেশন চালায় পুলিশ। রাত আনুমানিক ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসে যে, এক ব্যক্তি স্কুটারে করে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ লালগোলা সীমান্ত অঞ্চলের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এই খবরের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল অবিলম্বে তৎপর হয়ে মার্কল অ্যাপ্লেক্স বাঁধ রোডে ব্যারিকেড তৈরি করে নজরদারি শুরু করে। অবশেষে রাত ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ একটি চেরি রঙের স্কুটার ওই ব্যারিকেডের সামনে এসে পৌঁছলে পুলিশ গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি শুরু করে। তল্লাশিতে যুবকের সঙ্গে থাকা একটি কালো রঙের ব্যাগ থেকে থরে থরে সাজানো নোট উদ্ধার হয়। ওই ব্যাগে ৫০০ টাকার মোট ৬০টি বান্ডিল ছিল। পুলিশের জেরার মুখে ধৃত ব্যক্তি এই বিপুল পরিমাণ অর্থের কোনো বৈধ নথিপত্র বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।
এই ঘটনায় রঘুনাথগঞ্জ থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু করা হয়েছে। সীমান্ত পারের এই অবৈধ লেনদেনের পেছনে অবৈধ কারবার বা হাওলার নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে কিনা এবং এই টাকার আসল উৎস কোথায়, তা খতিয়ে দেখতে এখন পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
এদিকে, এই ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো মাথা রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে শুরু হয়েছে জোর চাঞ্চল্য। প্রসঙ্গত, মাত্র ১৮ দিন আগেই সীমান্তবর্তী ওই এলাকারই অন্য এক ব্যক্তির ঘর থেকে ৬৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় সইবুর শেখ নামে বাড়ির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এই দুই বড় ঘটনার মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও গভীরভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী অফিসাররা।