সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: দুর্গা ও লক্ষ্মী পূজার শেষে কালী, জগদ্ধাত্রী ও কার্তিক প্রতিমা তৈরিতে এখন ব্যস্ত কৃষ্ণনগর। আসন্ন কালীপুজোকে ঘিরে কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পালয় গুলিতে এখন যেন যুদ্ধের আবহ। দিন-রাত এক করে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। শ্যামা কালী থেকে শুরু করে মহাকালী,ভৈরবী, তারা মা সহ মায়ের বিভিন্ন রূপের প্রতিমা তৈরি কাজ চলছে পুরোদমে। কর্মশালার প্রতিটি কোণে লেগে আছে কাদা, খড়, বাঁশ ও রঙের গন্ধ। মূর্তি গড়ার পাশাপাশি চলছে রং ও সাজসজ্জার প্রস্তুতি। এই মুহূর্তে শহরের ঘূর্ণি, মহিষাল পাড়া লেন, পালপাড়ার মতো এলাকাগুলিতে রাতদিন কাজ চলছে। কারও হাতে খড় বাঁধা, কেউ কাদা মেশাচ্ছেন, কেউ আবার তুলির টানে প্রাণ দিচ্ছেন দেবীর চোখে-মুখে। কালীপুজো যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ।
বেশিরভাগ মৃৎশিল্পীরা বলেন, পুজোর মরশুমের সবচেয়ে ব্যস্ত সময় কাটে আমাদের। অর্ডার প্রতিবারের মতো এবছরও বেশ ভালোই আছে। বৃষ্টি বেশ ভুগিয়েছে বলে, কাজ অনেক পিছিয়ে গিয়েছে। না হলে এতদিন ঠাকুর তৈরির কাজ প্রায় শেষ হয়ে যেত। আর কয়েকদিনের মধ্যেই যে সব ঠাকুর অনেক দূরে বা ভিনরাজ্যে পাঠাতে হবে সেইগুলো তৈরির কাজ শেষ করে ফেলতে হবে। এদিকে হাতে আর সময় নেই। খড়, বাঁশ, রং, প্রতিমার জরির কাজ সব কিছুর দাম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে প্রতিমার দাম কিছুটা বাড়াতে বাধ্য হতে হয়েছে।
হাটখোলা পাড়ার মৃৎশিল্পী সুবীর দাস বলেন, ছোটবেলা থেকেই এই মাটির কাজ শিখেছি। অন্য কাজ তো আর পারিনা। এই কাজ করেই চলতে হবে। অনেকটা সময় নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। পুজোর তিনদিন আগেই ঠাকুর তৈরি করে রাখতে বলেছে বারোয়ারিগুলো। তাই কাজে প্রচুর চাপ এখন। আর এক মৃৎশিল্পী বন্দনা দাস বলেন, এবার ছোট বড় মিলিয়ে ১২টি ঠাকুরের অর্ডার পেয়েছি। তবে প্রায় ২৫টি’র মতো ঠাকুর গড়া হচ্ছে। প্রতিবার দেখি শেষ মুহূর্তে বেশ কিছু ঠাকুরের অর্ডার চলে আসে। তখন আমাদের খুব সমস্যা হয়ে যায়। তাই আগে থেকেই অতিরিক্ত কিছু করে রেখেছি। -নিজস্ব চিত্র



