সংবাদদাতা, মানকর: দু’টি হাতই অসার। হাতে কোনও কাজ করতে পারে না। তবে কখনও হাল ছাড়েনি মানকরের খাণ্ডারীডাঙার আদিবাসী সম্প্রদায়ের দরিদ্র পরিবারের মেয়ে সীমা মাড্ডি। অদম্য ইচ্ছে শক্তি আর হার না মানা মনোভাবেই এসেছে সাফল্য। পায়ে লিখেই সে মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হয়েছে। সেই খবরে আনন্দিত পরিবারের সকলে। নম্বর নজরকাড়ার মতো না পেলেও তার এই লড়াইকে কুর্ণিশ জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জন্ম থেকেই সীমার দু’টি হাতের এমন অবস্থা। প্রথমদিকে পায়ের ব্যবহারেও অসারতা থাকলেও ধীরে ধীরে সেই পা’কেই হাতিয়ার করে সে নেমেছে জীবন যুদ্ধে। তবে শিক্ষার প্রতি টান তার ছোট থেকেই। অন্য শিশুরা ছুটে বেড়ালেও সীমা পারত না। দীর্ঘ সময় নিয়ে বিদ্যালয়ে যেত। মানকর গার্লস স্কুল থেকে সীমার মাধ্যমিক পাশের খবর শুনে তাই খাণ্ডারিডাঙা নিম্নবুনিয়াদি বিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে স্থানীয় বাসিন্দা অনেকেই ভিড় করেছেন। ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক তরুণ ঘোষ বলেন, প্রথমদিকে যখন স্কুলে আসত ওর লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হতো না। মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরে দেখলাম ও পায়ে করে বই-খাতার পাতা উল্টাচ্ছে। আমি চক দিয়ে মেঝেতে ছবি আঁকতে বলতাম। পরে ওকে বর্ণ শেখানো হয়। খাতায় লেখানোও শুরু এই স্কুল থেকে। সীমা মাধ্যমিকে ২৩২ পেয়ে পাশ করেছে। আগামী দিনে সে আরও পড়তে চায়। সীমা বলে, স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা পড়াশোনায় সহযোগিতা করেছেন। দুই আঙুলের মাঝে পেন রেখে লিখতে এখন আর সমস্যা হয় না। সীমার বাবা বুদি মাড্ডি দিনমজুরি করে সংসার চালান। চার মেয়ের মধ্যে সীমা দ্বিতীয়। মেয়ের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দেখে মন খারাপ হয়েছিল তাঁর। কিন্তু মেয়ের সাফল্যে এখন চোখে জল ধরে রাখতে পারছেন না। তিনি বলেন, সীমার শিক্ষা যেন কোনওভাবেই বন্ধ না হয়, তার জন্য আপ্রাণ চেষ্ট করব। কিন্তু আর্থিকভাবে দুর্বল বুদিবাবুর আশা সরকার যদি সহযোগিতা করে তাহলে সীমার পড়াশোনায় সুবিধা হবে। সীমা মাড্ডি।-নিজস্ব চিত্র