সংবাদদাতা, ঘাটাল: নতুন সরকারের শপথের তিন সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বিষয়টি রাজ্যস্তরের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে আলোচিত হওয়ায় খুশি ঘাটাল মহকুমার বাসিন্দারা। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্যের ৩৪টি দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত চর্চা হয়, যার মধ্যে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বিশেষ গুরুত্ব পায়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দ্রুত বাস্তবায়িত করা হবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। এক্ষেত্রে রাজ্যকে সাহায্য করবে কেন্দ্র। শুধু তাই নয়, প্রকল্পের ব্যয় কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার অর্ধেক করে বহন করবে। সেইমতো সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং আর্থিক বরাদ্দ চূড়ান্ত করার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন বলে খবর। এই খবর জানার পর থেকেই ঘাটাল মহকুমা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা খুশিতে ভাসছেন।
প্রতি বছর বর্ষায় মেদিনীপুরের ১৩টি ব্লকের ১৬৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। দুর্ভোগে পড়েন প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ। নষ্ট হয় ফসল, মারা যায় মানুষ এবং গবাদিপশুও। এই বিস্তীর্ণ এলাকাকে বন্যামুক্ত করতে ১৯৮২ সালে তদানীন্তন সেচমন্ত্রী এই প্রকল্পের শিলান্যাস করলেও কাজ একটুও এগয়নি। পরবর্তীতে এই প্রকল্পের জন্য ১৭৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২১৪ কোটি ৯২ লক্ষ টাকার কাজ হওয়ার কথা ছিল।
২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি আরামবাগের এক জনসভা থেকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারীকে (দেব) পাশে রেখে ঘোষণা করেন, রাজ্য সরকারের অর্থেই ওই মাস্টার প্ল্যান কার্যকরী হবে। সেই মতো ২০২৫-২৬ বাজেটে তৎকালীন রাজ্য সরকার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে মাস্টার প্ল্যানের কাজও শুরু করে। তবে ঘাটালের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট বলেন, তৃণমূল সরকার মাস্টার প্ল্যানের যে রূপরেখাটি তৈরি করেছিল তা অবৈজ্ঞানিক। সেজন্যই বর্তমান রাজ্য সরকার নতুন করে পরিকল্পনা করে মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ করার জন্য এগিয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় সরকারও সহযোগিতা করবে।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কার্যকরী করা নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটি। ওই কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে আমরা খুশি। আমরাও চাই যে কোনোভাবে এই মাস্টার প্ল্যান দ্রুততার সঙ্গে কার্যকরী হোক।
দীর্ঘ দশক ধরে বন্যার সঙ্গে লড়াই করা সাধারণ মানুষের কাছে সোমবারের মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা নতুন আশার আলো। কৃষিজীবীরা স্বপ্ন দেখছেন, ফি বছর ফসলের ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে তাঁরা এবার স্থায়ী রেহাই পাবেন। প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে দ্রুত পদক্ষেপের বার্তা আসায় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরেছে। কারণ বন্যার জেরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় অর্থনীতি চরম ধাক্কা খায়। এখন সকলের নজর, কত দ্রুত এই নয়া পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি হয়ে বাস্তবে কাজ শুরু হয়।