


সংবাদদাতা, বোলপুর: গবাদি পশু নিয়ে যাওয়ার সময় একটি বাইক পড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বচসার জেরে প্রৌঢ়কে পাথর দিয়ে মেরে খুনের অভিযোগ উঠল। কীর্ণাহারের দিঘিরপাড় এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম অষ্টম মেটে (৫৬)। রবিবার রাতে মৃত্যু হয় তাঁর। তিনি চাষবাস করতেন। মৃতের পরিবার চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে। অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। তাদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
মৃতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার দুপুরে অষ্টমবাবু মাঠ থেকে গবাদি পশু চরিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেইসময় রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একই গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক দাস বৈরাগ্যের বাইকের সঙ্গে তাঁর গবাদি পশুর ধাক্কা লাগে। এর জেরে বাইকটি রাস্তার উপর পড়ে যায়। বাইক থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দু’পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরিবারের অভিযোগ, বচসার মধ্যেই কার্তিক দাস বৈরাগ্য ও তার স্ত্রী মমতা দাস বৈরাগ্য, তাদের পরিচিত ধনা বাগদি এবং তার স্ত্রী কবিতা বাগদি একজোট হয়ে অষ্টমবাবুর উপর চড়াও হয়। বেধড়ক মারধর করা হয়। অষ্টমবাবুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। মারধরের জেরে অষ্টমবাবু রাস্তায় পড়ে যান। সেই অবস্থায় পাথর দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ। মারধরের জেরে তাঁর মাথা ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে অভিযুক্ত চারজন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় অষ্টমবাবুকে উদ্ধার করে প্রথমে কীর্ণাহার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখান থেকে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরদিন অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাঁকে বর্ধমানের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার রাত ১০টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। সোমবার সকালে মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই উত্তেজনা ছড়ায়। মৃতের স্ত্রী রূপালী মেটে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সকল দোষীর দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিনা কারণে তাঁর স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে।
মৃতের পরিবারের তরফে কীর্ণাহার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিশ তাদের ধরতে তল্লাশি চালাচ্ছে। ফোনের টাওয়ার লোকেশন দেখে অভিযুক্তদের সন্ধান চালানো হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। কীর্ণাহার থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। খুব শীঘ্রই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।