Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাধারণতন্ত্র দিবসই জেলাবাসীর কাছে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার দিন

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বস্তির শ্বাস ফেলেছিলেন নদীয়ার বাসিন্দারা। সংবিধান প্রতিষ্ঠা হওয়া মানে আর তাঁদের নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া হবে না। সীমান্তবর্তী জেলা নদীয়ার ভারতভুক্তি নিয়ে কম জলঘোলা তো হয়নি। ফলে সংবিধান গৃহীত না হওয়া নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না নদীয়ার মানুষ।

সাধারণতন্ত্র দিবসই জেলাবাসীর কাছে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার দিন
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি স্বস্তির শ্বাস ফেলেছিলেন নদীয়ার বাসিন্দারা। সংবিধান প্রতিষ্ঠা হওয়া মানে আর তাঁদের নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া হবে না। সীমান্তবর্তী জেলা নদীয়ার ভারতভুক্তি নিয়ে কম জলঘোলা তো হয়নি। ফলে সংবিধান গৃহীত না হওয়া নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না নদীয়ার মানুষ।  বহু উত্থান-পতন, ভাঙা গড়ার মধ্যে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজকের রাজ্যের পূর্বপ্রান্তের এই জেলাটি। আদতে ভৌগোলিক নদীয়ার ইতিহাস বেশ কয়েকশো বছরের পুরনো হলেও আজকের নদীয়া কিন্তু নেহাতই তরুণ। আসন্ন ২৩ ফেব্রুয়ারি সবে ৭৭ বছর ছুঁতে চলেছে জেলাটি। তাই আজ, সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিনটি এই জেলার কাছে আলাদা গুরুত্ব পায়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 
Advertisement
ইতিহাসের দলিল দস্তাবেজ অনুযায়ী বর্তমান নদীয়া বৃহদাকার ছিল। একদিকে যেমন অণুলিয়া, বল্লালঢিবি, বাংলার গৌরবময় পাল-সেন যুগ, দেবলগড়ের মত একাধিক প্রত্নক্ষেত্র রয়েছে। আবার শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, মদনমোহন তর্কালঙ্কার, কৃত্তিবাস ওঝা, দীনবন্ধু মিত্র, রাজশেখর বসু, প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় সহ বহু মনীষীর জন্মভুমি এই নদীয়ার মাটি। কিন্তু একইসঙ্গে ইতিহাস নদীয়ার প্রতি নির্দয়ও বটে। একাধিক কাটাছেঁড়া, গঠন-ভাঙনের মধ্যে দিয়ে আজকের ভৌগলিক নদীয়ার উৎপত্তি। যার প্রায় সবটাই ব্রিটিশদের সাম্রাজ্যবাদীদের সৌজন্যে। তাই দেশের সাধারণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দিনটি নদীয়ার মানুষের কাছে একাধিক কাঁটাছেঁড়ার উপর হালকা হিমেল পরশ। 
কী ছিল নদীয়া? সরকারের লিপিবদ্ধ নথি অনুযায়ী, ব্রিটিশ ভারতেই নদীয়া জেলার প্রথম আত্মপ্রকাশ। কাগজে কলমে নদীয়া জেলা গঠন হয় পলাশীর প্রান্তর রক্তাক্ত হওয়ার বেশ কিছু বছর বাদে। ১৭৮৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি নদীয়াকে জেলার স্বীকৃতি দেয়। যদিও তখন নদীয়া মানে আজকের নদীয়া, বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলির কিছু অংশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিরাট এক অঞ্চল। কমবেশি একই জীবনধারা ও সংস্কৃতি ক্রমশ নদীয়াকে সমৃদ্ধ করতে শুরু করলেও ভাগ্যের পরিহাস শুরু স্বাধীনতার নিশান ওড়ার সম্ভাবনা তৈরি হতেই। নদীয়া অন্তর্ভুক্ত হয় পূর্ব পাকিস্তানে। তিনদিন বহু টানাটানির পর ১৮ আগস্ট নদীয়ার ভারতভুক্তি হয়। কিন্তু এখানেই নদীয়ার শরীরে টেনে দেওয়া হয় পাকাপোক্ত ক্ষতচিহ্নটি। মাঝ বরাবর তৈরি হয় আন্তর্জাতিক সীমান্ত। পরিবারের সদস্য স্রেফ কলমের খোঁচায় হয়ে যায় বিদেশি আত্মীয়। নদীয়ার বৃহদংশ চলে যায় পূর্ব পাকিস্তানে আর এদেশে পড়ে থাকা অবশিষ্টাংশ নবদ্বীপ জেলা হিসেবে মানচিত্রে স্থান পায়। যদিও নদীয়াকে ছেড়ে খুব বেশি দিন বাঁচতে হয়নি এই দেশের মাটিকে। জেলা প্রশাসনের পোর্টাল অনুযায়ী, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান নদীয়ার নাম বদলে কুষ্ঠিয়া করলে সঙ্গে সঙ্গেই একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে নবদ্বীপ জেলার নাম পুনরায় নদীয়া করে দেওয়া হয়। আর স্বাধীন ভারতে নদীয়ার এই আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধার এবং আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৪৮। বিজ্ঞপ্তি নং ৫৪৫-জিএ তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮। কিন্তু তখনও ভারত সাধারণতন্ত্র হয়নি, তৈরি হয়নি সংবিধান। ফলে আশঙ্কা ছিলই— ফের উৎখাত হতে হবে না তো! ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি পূর্ণচ্ছেদ পড়ে সেই আশঙ্কায়। ফলে আজকের নদীয়ার জন্মদিন উদযাপন শুরু হয় ২৬ জানুয়ারি থেকেই। আজও বেঁচে থাকা স্বাধীনতার প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে করতে পারেন সেই কাটাছেঁড়া আর টানাপোড়নের দিনগুলি। ২৬ জনুয়ারি দিনটি তাঁদের কাছে সাধারণতন্ত্র ভারতের পতাকার তলায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলার দিন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ