Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সোয়াদিঘি খাল খননে বাধা দিলেই থানায় এফআইআর, সাফ জানালেন জেলাশাসক

সোয়াদিঘি খাল খননে বাধা দিলেই থানায় এফআইআর, সাফ জানালেন জেলাশাসক
  • ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: খাল সংস্কারের কাজে বাধা দিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সোয়াদিঘি খাল সংস্কারের কাজে বাধা দেওয়ার পর এমনই হুঁশিয়ারি দিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের অফিসে এনিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। আজ, শুক্রবার থেকেই স্বাভাবিক গতিতে খনন কাজ হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোনও রকম বাধা এলে থানায় এফআইআর দায়ের করা হবে। এদিনের বৈঠকে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, অতিরিক্ত জেলাশাসক(ভূমি) বৈভব চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলাশাসক(উন্নয়ন) নেহা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেচ দপ্তরের তমলুকের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দেবব্রত সরকার প্রমুখ ছিলেন। এছাড়াও ছিলেন শহিদ মাতঙ্গিনী, কোলাঘাট ও পাঁশকুড়ার বিডিও। খাল খননের কাজ মসৃণভাবে করার জন্য তাঁরা স্থানীয়স্তরে বৈঠক করেন। বন্যার হাত থেকে তিন ব্লকের মানুষকে বাঁচানোর জন্যই খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। কোনও অবস্থায় ওই কাজে বাধা দিলে প্রশাসন শক্ত হাতে মোকাবিলা করবে বলে এদিন জেলাশাসক সাফ জানিয়ে দেন।গত ২২ জানুয়ারি থেকে কাঁকটিয়ায় সোয়াদিঘি খাল সংস্কারের কাজ শুরু হয়। কাঁকটিয়া দুর্গা মণ্ডপের পূর্ব দিকে জেসিবি নামিয়ে খনন কাজ শুরু হয়। খালের উত্তর পাড়ে কাঁকটিয়া ও দক্ষিণ পাড়ে যশমন্তপুর গ্রাম রয়েছে। ২৫ জানুয়ারি খালের দক্ষিণ পাড়ে খনন কাজ চলার পর হুড়মুড়িয়ে ধস নামে। খালপাড়ে বসবাসকারী স্থানীয় রাধাকান্ত মাইতির কংক্রিটের বাথরুম ধসে পড়ে। ওই এলাকার গাছপালাও পড়ে যায়। অনেকটা জায়গা জুড়ে ধস নামার ওই এলাকার বাসিন্দারা খননে বাধা দেন। তারপর দু’দিন কাজ বন্ধ থাকে। ওই এলাকায় খাল কাটার কাজ আপাতত আটকে রয়েছে।
Advertisement
সোয়াদিঘি খাল কোলাঘাট থানার কিশোরচক গ্রাম থেকে রূপনারায়ণ নদ পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। দীর্ঘদিন ধরে এই খাল সংস্কার হয়নি। খালপাড় দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট এবং মাছের ভেড়ি গজিয়ে উঠেছে। গত বছর বন্যার পর এক মাসের বেশি সময় এলাকায় জল জমে ছিল। এই দুর্ভোগ থেকে শিক্ষা নিয়ে জেলা প্রশাসন ও সেচ দপ্তর সোয়াদিঘি সহ সবক’টি খাল সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা নেয়। ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের কোথায় কতটা খনন করা হবে, তা নিয়ে একটি কাটিং চার্ট তৈরি করা হয়েছে। গোটা এলাকাকে চারটি ধাপে ভাগ করে খনন হবে। কিশোরচকে খালের উৎপত্তি স্থলে তলদেশে ৭.৬২ মিটার এলাকা খনন হবে। তারপরের অংশ ১৫ মিটার খনন হবে। কাঁকটিয়ার কাছে খালের তলদেশে ১৯.৮ মিটার এলাকা খনন করা হবে। তারপর রূপনারায়ণ নদীর মুখে খালের তলদেশে দুই পাড়ের দূরত্ব হবে প্রায় ৩৩ মিটার। জল নিকাশি ব্যবস্থাকে মসৃণ করতেই এই পরিকল্পনা। এই চার্ট অনুযায়ী খনন কাজ করতে গিয়ে শুরুতেই বাধা আসে। অনেকেই বলছেন, চার্ট অনুযায়ী কাঁকটিয়া এলাকায় ১৯.৮ মিটার খাল কাটা হলে দুই পাড়ে অসংখ্য দোকানপাট, ঘর ভেঙে পড়বে। তাই শুরুতেই কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে।প্রশাসন অবশ্য নিকাশি সমস্যা সমাধানের জন্য সোয়াদিঘি খাল খনন করতে বদ্ধপরিকর। প্রয়োজনে পুলিস মোতায়েন করে খনন কাজ হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও রকম বাধা এলে সেচদপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে থানায় এফআইআর দায়ের করা হবে। শুক্রবার থেকেই পুরোদমে কাজ হবে বলে সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ