মুম্বই: ইতিমধ্যেই মনোনয়ন পেশের পর্ব শেষ। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, মারাঠাভূমে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এমনিতে রাজ্যে লড়াই বিজেপি শিবিরের সঙ্গে কংগ্রেস জোটের। কিন্তু তারপরও উঠে আসছে বিচিত্র সব সমীকরণ। প্রতিপক্ষের ভোটব্যাঙ্ক ভেঙে কিস্তিমাতের ব্লুপ্রিন্ট। এমনই নানান যোগ-বিয়োগের অঙ্কে চিত্তাকর্ষক হয়ে উঠেছে বান্দ্রা পূর্ব আসনের লড়াই। এই আসনে গতবার কংগ্রেসের টিকিটে জিতেছিলেন বাবা সিদ্দিকি। তারপর মুম্বই রাজনীতিতে নাটকীয় পটপরিবর্তন ঘটে গিয়েছে। দু’দুটো দল ভেঙেছে। সরকার পাল্টেছে। সিদ্দিকিও দল ছাড়েন। এরপর কিছুদিন আগেই দুষ্কৃতীর গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। এবার সিদ্দিকির আসনে প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ছেলে জিশান। অজিত পাওয়ারের এনসিপির হয়ে ভোটের ময়দান নেমেছেন তিনি। উদ্ধবের শিবসেনা প্রার্থী করেছে বরুণ সরদেশাইকে। এরইমধ্যে প্রাক্তন বিধায়ক তৃপ্তি সাওয়ান্তকে টিকিট দিয়ে বান্দ্রা পূর্বের লড়াই আরও জমজমাট করে তুলেছে রাজ থ্যাকারের এমএনএস।
Advertisement
খালি চোখে ত্রিমুখী টক্কর। কিন্তু রাজনীতির বোড়ের ঘুঁটি কখনও কি চেনা ছকে চলে? মারাঠা ভোট কেটে উদ্ধব থ্যাকারের দলের প্রার্থীর যাত্রাভঙ্গই ‘রাজ’ দরবারের প্রার্থীর লক্ষ্য বলে অভিযোগ উঠেছে। আর বিরোধীরা তো বটেই, এমন দাবি করেছেন স্বয়ং এমএনএস নেতা অখিল চিত্রেও। এবার জিশানের বাড়িতে গোপন বৈঠকেই তৃপ্তিকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি অখিলের। ২০১৯ সালের ভোটে এই আসনে দলের হয়ে লড়াইয়ের ব্যাটন ছিল অখিলের হাতে। ২০১৫ সালের উপ নির্বাচনে বান্দ্রা পূর্বে কংগ্রেসকে হারিয়েছিলেন শিবসেনা প্রার্থী তৃপ্তি। ২০১৯ সালের ভোটে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। নির্দল হয়ে ভোটে নেমেছিলেন তিনি। উদ্ধব শিবিরের নেতা অনিল পরাবের দাবি, সেবার সিদ্দিকির দাবার বোড়ে হয়ে উঠেছিলেন তৃপ্তি। প্রায় ২৪ হাজার ভোট ঝুলিতে টেনে শিবসেনার জয়ের আশায় ছাই ফেলেছিলেন তৃপ্তি। রাজনৈতিক শিবিরের মতে, সহানুভূতির ফ্যাক্টর একটা থাকলেও জিশানের পথে কাঁটাও থাকছে। বিজেপির শরিক দলে যোগদানের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের ভোট নিজের ঝুলিতে টানার পথে কাঁটা হয়ে উঠতে পারে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, মারাঠা ভোট ফিরিয়ে আনার জন্য শিবসেনা বরুণকে প্রার্থী করে পাল্টা চাল দিয়েছে। বরুণ সম্পর্কে উদ্ধবের ভাইপো। লোকসভা ভোটে এই বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী বর্ষা গায়কোয়াড় ২৮ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন। দলিত ও মুসলিম ভোটের পাশাপাশি মারাঠা ভোটও এই আসনে বড় ফ্যাক্টর। জটিল অঙ্কের হিসেবনিকেশে ব্যস্ত দুই শিবিরই। একদিকে আসন ধরে রাখার লড়াই জিশানের। অন্যদিকে, মারাঠা ভোট অটুট রেখে গড় দখলের লড়াই উদ্ধবের দলের। এই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যেই রয়েছে উদ্ধবের বাসভবন মাতোশ্রী। কাজেই এই আসনে কার্যত প্রেস্টিজ ফাইটে নেমেছে শিবসেনা (উদ্ধব)।



