নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: এবছর রেকর্ড ভাঙা গরম পড়ার পূর্বাভাস রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বারবার তাপপ্রবাহের সতর্কতা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে গ্রীষ্মের চোখরাঙানি এখন থেকেই কিছুটা ভয় ধরাতে শুরু করেছে জনগণের মনে। শুরুতেই পরিস্থিতি যেদিকে এগচ্ছে, তাতে মালদহ জেলাও হয়তো এবার রেকর্ড ভাঙতে পারে। এপ্রিলের শুরুতেই গৌড়বঙ্গ জুড়ে তীব্র গরম সেদিকেই ইঙ্গিত করছে। এখনই দিনের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে তিন ডিগ্রি বেশি। তীব্র গরম থেকে এখনই রেহাইয়ের কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী ৪৮ ঘণ্টায় তাপমাত্রা আরও বাড়বে। মঙ্গলবার মালদহের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮.২ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিনের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় তিন ডিগ্রি বেশি ছিল।
আবহাওয়া দপ্তরের উত্তরবঙ্গের কো-অর্ডিনেটর গোপীনাথ রাহা বলেন, আগামী দুই থেকে তিনদিনের মধ্যে মালদহে বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনাই নেই। বরং তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা আছে।
দহন থেকে স্বস্তি পেতে বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: পার্থসারথী রায়। তাঁর কথায়, এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে টুপি বা ছাতা ছাড়া বাইরে একেবারেই বেরনো যাবে না। সম্ভব হলে মাস্ক ও দেহ ঢাকা পোশাক পরে থাকার পাশাপাশি বেশি করে জল ও ওআরএস খেতে হবে।
এদিকে এপ্রিল মাস পড়তেই তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়। সকাল থেকেই সূর্যের প্রখর তেজে বাড়ি থেকেই বের হওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে বাসিন্দাদের কাছে। কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরও বাড়বে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছে বালুরঘাট মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এদিন বালুরঘাটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৮ ডিগ্রি এবং সর্বনিম্ন ২০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েক দিন দুপুরের দিকে গরম বাড়লেও রাতে তাপমাত্রা খানিকটা কমের দিকে থাকছে। ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ঘুমোনো যাচ্ছে। এবিষয়ে বালুরঘাট মাঝিয়ান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষক সুমন সূত্রধর বলেন, তাপমাত্রা আরও বাড়বে কয়েক দিনে।
অন্যদিকে ধীরগতিতে হলেও বেড়ে চলেছে উত্তর দিনাজপুরের তাপমাত্রা। গত এক সপ্তাহে ৩৫ ডিগ্রির নীচে তাপমাত্রা না নামায় রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা। যার জেরে নিত্যদিন দুপুরে শুনশান হয়ে যাচ্ছে রায়গঞ্জ শহরের রাস্তাঘাট। এমন পরিস্থিতিতে সিকিম আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস, চলতি সপ্তাহে গরম বাড়বে। কমার কোনও সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। দপ্তরের আধিকারিক গোপীনাথ রাহার কথায়, বর্তমানে আবহাওয়ার যে গতিপ্রকৃতি, তাতে ৩৫ ডিগ্রি ছাপিয়ে যাবে রায়গঞ্জের তাপমাত্রা। আপাতত এই পরিস্থিতি বদলের সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার রায়গঞ্জের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৭ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন ১৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর ফলে একদিকে যেমন গরম বাড়ছে, সামঞ্জস্য রেখে ঊর্ধ্বমুখী আইসক্রিম, ঠাণ্ডা পানীয়, ডাবের চাহিদাও। নিজস্ব চিত্র।