সংবাদদাতা,খাতড়া: আবাসিক ছাত্রদের নিম্নমানের খাবার, নানান সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে পড়ুয়াদের বঞ্চিত রাখা এবং এসবের প্রতিবাদ করলেই পড়ুয়াদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের বদলির দাবিতে পথ অবরোধ করে স্কুল পড়ুয়ারা। এই চিত্র বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরের একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের। শনিবার সকাল ১০টা থেকেই পড়ুয়ারা স্কুলে না গিয়ে মুকুটমণিপুর গোড়াবাড়ি রাস্তার উপর প্ল্যাকার্ড হাতে অবরোধে নেমে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বদলির দাবিতে সরব হয়। খবর পেয়ে প্রথমে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় খাতড়া থানার আইসি, বিডিও। চলে আসেন খাতড়া›র এসডিও, এসডিপিও সহ স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকও। বহু টালবাহানার পর বিকেল ৩টা নাগাদ অবরোধ তোলে পড়ুয়ারা। যদিও পড়ুয়াদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ও হস্টেল কর্তৃপক্ষ । অন্যদিকে, বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।
জানা গিয়েছে মুকুটমণিপুরে থাকা একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলে ছাত্র ও ছাত্রীদের পৃথক হস্টেলে কমবেশি সাড়ে চারশো আবাসিক পড়ুয়া রয়েছে। পড়ুয়াদের একশো শতাংশই আদিবাসী সম্প্রসায়ের। অভিযোগ, ছাত্র ও ছাত্রীদের দু’টি হস্টেল রয়েছে। সেই দুটির রান্নাঘরে আবাসিক পড়ুয়া ও শিক্ষকদের জন্য পৃথক মানের খাবার রান্না হয়। পড়ুয়াদের যে খাবার দেওয়া হয় তা অত্যন্ত নিম্নমানের। খাবার ছাড়াও পড়ুয়াদের পোশাক থেকে শুরু করে অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করে স্কুল ও হস্টেল কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে পড়ুয়ারা বঞ্চনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও পড়ুয়াদের খেলাধুলোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো কোচ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ, এসবের প্রতিবাদ করতে গেলে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক ও হস্টেলের আধিকারিকরা পড়ুয়াদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে বদলের দাবি তুলে এদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত রাস্তায় বসে ওই স্কুলের পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখায়। তবে পড়ুয়াদের অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক কৃষ্ণেন্দু মল্লিক বলেন, এসব অভিযোগ নিয়ে আমাকে কখনো বলেনি তারা। কারণ প্রধান শিক্ষক ছুটিতে থাকায় আমি ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছি। অন্য স্কুলে যোগ দিলেই আমি স্বাভাবিক কারণেই আর দায়িত্বে থাকব না। তবে যে সব অভিযোগ উঠছে সেগুলি সত্য নয়। অন্যদিকে, স্কুলের হস্টেলের দায়িত্বে থাকা মৌমিতা বাউরি বলেন এসব অভিযোগ মিথ্যা। পড়ুয়াদের সঙ্গে কখনও খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। রাজ্যের আদিবাসী কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, কিছুদিন আগেই আমি ওই স্কুলের হস্টেল পরিদর্শন করেছি। সকালেই ওই রাস্তা দিয়েই পুরুলিয়া গিয়েছিলাম। পড়ুয়াদের অবরোধের কথা জানা নেই। তবে দ্রুত বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। মুকুটমণিপুরে স্কুলপড়ুয়াদের বিক্ষোভ।