নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের স্কুলশিক্ষার সিলেবাস তথা কারিক্যুলাম কমিটির উপরে কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি চাপ নেই। মঙ্গলবার কমিটির প্রথম বৈঠকে এসে এই কথা জানিয়ে দিলেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। এদিনের বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায়, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বিজেপি নেতা চিত্তরঞ্জন মণ্ডল প্রমুখ।
উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী রাজনীতিমুক্ত পাঠদান এবং তোষণমুক্ত পাঠ্যক্রমের পক্ষে সুপারিশ করেন। তিনি এও বলেন, ‘তোষণ করার জন্য ইচ্ছা করে আগের সরকার পাঠ্যক্রমে কিছু নাম বারবার ঢুকিয়ে গিয়েছে। আমাদের রংধনুকে রামধনু, আসমানকে আকাশ এবং নাস্তাকে জলখাবারে ফিরিয়ে আনতে হবে।’ তিনি বর্ণপরিচয় এবং সহজপাঠ ফিরিয়ে আনার সুপারিশও করেছেন। নাম না করে কিছু এনজিওর সমালোচনা করে উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী বলেন, ‘এদের সুপারিশেই বইগুলি বাদ গিয়েছিল। আবার তারাই পরে ছাত্রছাত্রীদের রিডিং পড়ার ক্ষমতা তৈরি হয়নি বলে সমালোচনা করেছে।’
স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপকবাবু অবশ্য জানান, কোন শব্দ যথাযথ বা যথাযথ নয়, তা বিশেষজ্ঞরা ঠিক করবেন। ভাষা নিয়ে অযথা বিভাজনের পক্ষপাতী নন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, উর্দু বাংলা ভাষাকে গ্রাস করেছে, এমন ধারণার সঙ্গে তিনি একমত নন। অর্থাৎ উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী এবং স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর মতামতে স্পষ্টতই ভিন্নতা দেখা গিয়েছে। তথাগত রায় সিলেবাসে বিভিন্ন মনীষীদের পাশাপাশি শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দেশভাগ ও দাঙ্গার প্রসঙ্গও সিলেবাসে আনার প্রস্তাব দেন তিনি। কয়েক দশকের ঘটনাকে যেহেতু ইতিহাস বলা যায় না, তাই সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ ইতিহাস থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও রাখেন তিনি। যদিও স্কুলশিক্ষা দপ্তরের এই মুহূর্তে প্রধান লক্ষ্য দ্রুত নতুন বই প্রকাশ। ২ জানুয়ারি বুক ডে’র দিন সমস্ত ছাত্রছাত্রীর হাতে নতুন বই দেওয়ার লক্ষ্যে এগচ্ছে দপ্তর।