Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেহাল অর্থনীতিতে অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পগুলির ভূমিকা সদর্থক, দাবি ক্রিসিলের

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার  থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা। মিশন শক্তি থেকে কল্যাণ লক্ষ্মী। মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের মতো সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রাখা এখন রাজ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক সাফল্যের অন্যতম হাতিয়ার।

বেহাল অর্থনীতিতে অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পগুলির ভূমিকা সদর্থক, দাবি ক্রিসিলের
  • ২৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার  থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা। মিশন শক্তি থেকে কল্যাণ লক্ষ্মী। মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের মতো সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প চালু রাখা এখন রাজ্যে রাজ্যে রাজনৈতিক সাফল্যের অন্যতম হাতিয়ার। তা কি সত্যিই সমাজের কোনো উপকারে লাগছে? একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মহিলাদের আর্থিক সহয়তা প্রকল্পগুলি তাঁদের দৈনিক সংসার চালানোর হাল ধরতে সক্ষম হয়েছে। আর্থিকভাবে যাঁরা নীচের স্তরে আছেন, সেই ২০ শতাংশ পরিবারের প্রাত্যহিক খরচের ৭৪ শতাংশ জোগাচ্ছে এই প্রকল্পগুলি। গ্রামাঞ্চলে মাসিক খরচের ৫১ শতাংশ আসছে এই সরকারি অনুদানের হাত ধরেই। রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগামী দিনে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ আসবে বা আসছে তিনটি ক্ষেত্রে। মূল্যবৃদ্ধি, এল নিনোর প্রভাবে অর্থনৈতিক ধাক্কা এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। সমাজের নীচুস্তরে এই ধাক্কা সামলাতে ঢাল হিসাবে কাজ করবে এই সরকারি সহায়তা প্রকল্পগুলিই।

Advertisement

নামী ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল দাবি করেছে, ২০১৯ সালে দেশের মোট চারটি রাজ্য মহিলাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করত। এই তালিকায় ছিল তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা ও গোয়া। চলতি ২০২৬ সালে ২৮টি রাজ্যের ম঩ধ্যে ১৭টি রাজ্যে তা চালু হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার রেওয়াজ চালু আছে। ক্রিসিলের হিসেব, তার গড় অঙ্ক দেশে মাসিক দেড় হাজার টাকা। ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের (এনএসও) তথ্য সামনে এনে তারা জানাচ্ছে, বছরে এক থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত যে পরিবারগুলির আয়, সেখানে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলি। মাসিক দেড় হাজার টাকার হিসাব ধরেই সমাজের এই স্তরের গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন খরচের ৭৪ শতাংশ এবং শহুরে মানুষদের খরচের ৫১ শতাংশ বহন করছে প্রকল্পগুলি। ক্রিসিলের দাবি, পিএম কিষান, বিনামূল্যের রেশন এবং ১০০ দিনের কাজ বা জি রাম জি প্রকল্পগুলির সঙ্গে মহিলাদের প্রাপ্য টাকা মিলে সংসারের আর্থিক ঝাপটা সামলানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। 
প্রকল্প চালু রাখতে রাজ্যগুলির আর্থিক সংকটও যে বাড়ছে, তা মেনে নিয়েছে ক্রিসিল। তাদের বক্তব্য, এই অনুদান মেটাতে দেনায় ডুবছে রাজ্যগুলি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আর্থিক অনুদান দেওয়া রাজ্যগুলির মোট ঋণের বোঝা একবছর আগের তুলনায় ১৫.২ শতাংশ বেড়েছে। একবছরে তারা ঋণ নিয়েছে ১২ লক্ষ ৪০ হাজার কোটি টাকা। যেসব রাজ্য অনুদান দিচ্ছে, তাদের মধ্যে ১২টিতে ঋণগ্রহণ বৃদ্ধির হার ন্যূনতম ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেছে ক্রিসিল। তবু তাদের বক্তব্য, অর্থনৈতিকভাবে লক্ষ লক্ষ মানুষের সাংসারিক খরচের চিন্তা দূর করতে সমর্থ হয়েছে এই প্রকল্পগুলি। চাহিদাভিত্তিক অর্থনীতিতে এটি যে ভূমিকা নিয়েছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক।  

সম্পর্কিত সংবাদ