নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: নতুন স্বনির্ভর দল গড়তে ব্যর্থ হচ্ছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার একাধিক ব্লক। রাজ্যের বেঁধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছে নেই জামুড়িয়া, সালানপুর, বারাবনি—তালিকা দীর্ঘ। কোথাও লক্ষ্যমাত্রার ১৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। কোথাও ১৮ শতাংশ। হাতে মাত্র দু’মাস। লক্ষ্যপূরণে বিশেষ ড্রাইভ দিচ্ছে প্রশাসন। শুধু গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে নয়, মৌজা ভিত্তিক স্বনির্ভর দলের গোষ্ঠী গড়তে ক্যাম্প করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাতেও যে লক্ষ্যমাত্রা অসম্ভব, তা কার্যত মেনে নিয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। তাঁদের বক্তব্য, এই জেলার বহু মানুষ অন্য রাজ্য থেকে এখানে এসেছেন। তাঁদের ব্যাঙ্ক লোন দিতে চাইছে না। ওয়েস্ট বেঙ্গল রুরাল লাইভলিহুড মিশনের লক্ষ্যপূরণ হচ্ছে না। পাশাপাশি জেলার আর্থ সামাজিক অবস্থাও স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ার পরিপন্থী বলে প্রশাসনিক আমলাদের দাবি।
Advertisement
৩১ জানুয়ারি পঞ্চায়েত দপ্তর জেলার বিভিন্ন কাজের রিভিউ বৈঠক করে। সেখানেই ওঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষে জামুড়িয়া ব্লককে রাজ্য থেকে ৩৮২টি গোষ্ঠী গড়ার টার্গেট দেওয়া হয়। ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারি পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে ৪৮টি। অফলাইন রিপোর্ট অনুযায়ী, গোষ্ঠী হয়েছে ৫৭টি। লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ১৫ শতাংশ পূরণ করতে পেরেছে ব্লক প্রশাসন। এখন শীর্ষ মহলের ঠেলায় পড়ে স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়তে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। জেলাস্তরের আধিকারিকরা ঘন ঘন এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। কাজের গতি বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা করছেন। একই দশা সালানপুর ব্লকেরও। ৩০৫টি নতুন গোষ্ঠী গড়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। পোর্টাল অনুযায়ী, গোষ্ঠী হয়েছে ৫২টি। অফলাইনের হিসেব বলছে, গোষ্ঠী হয়েছে ৫৫টি। শতাংশের বিচারে মাত্র ১৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। রানিগঞ্জ ব্লককে ১০৪টি নতুন গোষ্ঠী গড়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। অফলাইন তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৯টি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার যা মাত্র ২৮ শতাংশ। বারাবনি ব্লকেও ১০৫টি গোষ্ঠী গড়তেই হিমশিম দশা। সেখানে এখনও পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে মাত্র ৩৯ শতাংশ। বৈঠকে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের অবস্থাও শোচনীয়। সেখানে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ২৩ শতাংশ পূরণ হয়েছে।
প্রশাসনকে স্বস্তি দিয়েছে একমাত্র কাঁকসা ব্লক। অর্থবর্ষ শেষের দু’মাস আগেই কাঁকসা ব্লককে টার্গেট দেওয়া হয়। টার্গেট পূরণে সফল। ১০৯টি গোষ্ঠী গড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অণ্ডাল ব্লকের ১১৫টি গোষ্ঠী গড়ার টার্গেট রয়েছে। এখনওপর্যন্ত ৯৪টি গোষ্ঠী তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাণ্ডবেশ্বরের ২৪৮টির মধ্যে ২১৯টি গোষ্ঠী গড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের দাবি, খনি ও শিল্পাঞ্চল হওয়ার জেরে এখানে মানুষের বিকল্প পেশা রয়েছে। তাই অনেকেই গোষ্ঠী গড়ে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসার করার চেয়ে কয়লা কুড়িয়ে, কারখানায় কাজ করে সহজে টাকা রোজগারে স্বচ্ছন্দবোধ করছেন। ডিস্ট্রিক্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ইন্দ্রদেব ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়া হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই ভিন রাজ্য থেকে শিল্পাঞ্চলে বসবাস করা মানুষদের ব্যাঙ্ক লোন দিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে শীর্ষস্তরে কথা বার্তা চলছে।
প্রশাসনকে স্বস্তি দিয়েছে একমাত্র কাঁকসা ব্লক। অর্থবর্ষ শেষের দু’মাস আগেই কাঁকসা ব্লককে টার্গেট দেওয়া হয়। টার্গেট পূরণে সফল। ১০৯টি গোষ্ঠী গড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অণ্ডাল ব্লকের ১১৫টি গোষ্ঠী গড়ার টার্গেট রয়েছে। এখনওপর্যন্ত ৯৪টি গোষ্ঠী তৈরি হয়ে গিয়েছে। পাণ্ডবেশ্বরের ২৪৮টির মধ্যে ২১৯টি গোষ্ঠী গড়ার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রশাসনিক মহলের দাবি, খনি ও শিল্পাঞ্চল হওয়ার জেরে এখানে মানুষের বিকল্প পেশা রয়েছে। তাই অনেকেই গোষ্ঠী গড়ে ব্যাঙ্ক থেকে লোন নিয়ে ব্যবসার করার চেয়ে কয়লা কুড়িয়ে, কারখানায় কাজ করে সহজে টাকা রোজগারে স্বচ্ছন্দবোধ করছেন। ডিস্ট্রিক্ট রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের প্রজেক্ট ডিরেক্টর ইন্দ্রদেব ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্প করে নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়া হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই ভিন রাজ্য থেকে শিল্পাঞ্চলে বসবাস করা মানুষদের ব্যাঙ্ক লোন দিচ্ছে না। বিষয়টি নিয়ে শীর্ষস্তরে কথা বার্তা চলছে।



