সংবাদদাতা, বহরমপুর: প্রতিবেশী মহিলার সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ার কথা জানতে পেরে বাধা দিতে গিয়েও ব্যর্থ হন গৃহবধূ। অশান্তির জেরে অভিমানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যার চেষ্টা করেন অন্তঃসত্ত্বা ওই গৃহবধূ। তেরো দিন চিকিৎসার পর রবিবার দুপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর। মৃতের নাম মামণি মণ্ডল (২৪)। ঘটনাটি ঘটেছে সাগরপাড়া থানার আনন্দপল্লি গ্রামে। মেয়ের মৃত্যুর জন্য তাঁর স্বামী সহ চারজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের মা। ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস। রবিবার মেডিক্যাল কলেজে মামণি মণ্ডলের মৃত্যুর পর থেকে অভিযুক্তরা বেপাত্তা বলে জানতে পারা গিয়েছে।
Advertisement
বছর সাতেক আগে সাগরপাড়া থানার মাঠপাড়ার বাসিন্দা মামণি মণ্ডলের অন্য এক জায়গায় বিয়ে হয়েছিল। প্রথম পক্ষের বছর পাঁচেকের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। প্রথম পক্ষের সন্তান তার বাবার সঙ্গে রয়েছে। বছর দুয়েক আগে মামণি মণ্ডলকে আনন্দপল্লির বাদিন্দা সঞ্জু মণ্ডল ফুঁসলিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে এসে ঘরে তোলে বলে অভিযোগ। দুজনের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মৃতের দিদা দীপালি মণ্ডল বলেন, আমার মেয়ে কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকে। নাতনি আমার কাছেই বড় হয়েছে। ওই সঞ্জু নাতনিকে ভুল বুঝিয়ে তার সংসার ভেঙে নিয়ে আসে। এখন গ্রামের এক বিবাহিত মহিলাকে বিয়ে করতে চাইছে। নাতনি জানতে পেরে বাধা দিয়েছিল। গত দুর্গাপুজোয় এই নিয়ে একপ্রস্ত অশান্তি হয়েছিল। সেদিন আপস মীমাংসায় মিটলেও সঞ্জু মণ্ডল বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। মকর সংক্রান্তির দিন প্রতিবেশী মহিলা সঞ্জু মণ্ডলের বাড়িতে এলে ফের অশান্তি শুরু হয়। বাধা দিতে গিয়েই চরম অশান্তি শুরু হয়। স্বামীকে ফেরাতে না পেরে সেদিন সন্ধ্যায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মামণি মণ্ডল বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে সাগরপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখান থেকে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল ও পরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। মৃতের মা সীমা চৌধুরী বলেন, আমার মেয়ের সংসার ভেঙে আরও এক সংসার ভাঙার চেষ্টা করেছিল। মেয়ে জানতে পেরে বাধা দেওয়ায় অশান্তি শুরু হয়। মেয়ের মৃত্যুর জন্য ওরাই দায়ী। জামাই সহ চারজনের নামে অভিযোগ জানিয়ে উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছি। সঞ্জু মণ্ডল চায়ের দোকানের আড়ালে অবৈধ মদের কারবার করত বলে অভিযোগ তুলেছেন সীমাদেবী।



