Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

স্বামীর মৃত্যুতে বাতিল ভ্রমণ, প্যাকেজ ট্যুরের ফেরতে অস্বীকার পর্যটন সংস্থার

স্বামীর মৃত্যুতে বাতিল ভ্রমণ, প্যাকেজ ট্যুরের ফেরতে অস্বীকার পর্যটন সংস্থার
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি কলকাতা: বাঙালি ভ্রমণপ্রিয়। শীতে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা বহু আগেই করে। ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে দাগ দিয়ে রাখে পছন্দের তারিখ। এ বছর পাহাড় হলে পরের বছর সমুদ্র। কিংবা জঙ্গল। অথবা নিরিবিলিতে দু’দিন কাটানোর কোনও জায়গা খোঁজে। ইদানিং ঘুরতে যেতে প্যাকেজ ট্যুরের উপর ঝুঁকছেন পর্যটকরা। বিভিন্ন নামকরা সংস্থা বছরভর প্যাকেজ ট্যুরের অফারও দিয়ে থাকে। পর্যটকরা তাতে আকৃষ্ট হয়ে বুক করেন। কিন্তু কোনও দুর্ঘটনা ঘটে গেলে ট্যুর বাতিল করতেই হয় গ্রাহকদের। অভিযোগ, তখন টাকা ফেরতে গাঁইগুঁই করে বহু সংস্থা। একটি পর্যটন সংস্থা টাকা ফেরত দিচ্ছিল না বলে এরকম অভিযোগ উঠল। তবে শেষমেশ রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হয়ে সুরাহা পেলেন এক পর্যটক।
Advertisement
শীতে সিমলা যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন হাওড়ার অরুণিমা রায়। স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কলকাতার চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ে একটি নামী বেসরকারি পর্যটন সংস্থায় মাধ্যমে সিমলা প্যাকেজ ট্যুর বুক করেছিলেন। অগ্রিম বাবদ জমা দিয়েছিলেন ৫২ হাজার ৫০০ টাকা। ডিসেম্বর মাসে তাঁদের যাওয়ার কথা ছিল। আগস্ট মাসে টাকা দিয়ে দেন। সেপ্টেম্বর মাসে রায় পরিবারে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রয়াত হন অরুণিমাদেবীর স্বামী। স্বাভাবিকভাবেই মহিলার পক্ষে একা সিমলা যাওয়া সম্ভব ছিল না। স্বামীর শেষকৃত্য মিটিয়ে শোক খানিক কাটার পর কিছুদিন বাদে ওই পর্যটন সংস্থায় টাকা ফেরতের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ, সংস্থাটি টাকা দিতে অস্বীকার করে। তাদের দাবি, হোটেল, গাড়ি ভাড়া করা হয়ে গিয়েছে। ফলে টাকা দেওয়া সম্ভব নয়। সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও সুরাহা পাননি অরুণিমাদেবী। এরপর যোগাযোগ করেন রাজ্য সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরে। দু’পক্ষকে নিয়ে এক টেবিলে বসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন দপ্তরের কলকাতা সেন্ট্রাল অফিসের আধিকারিকরা। ওই পর্যটন সংস্থাকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য বোঝানো হয়। তবে অভিযোগ, তারা জিএসটির ফিরিস্তি দিতে থাকেন। তবে বিস্তর আলোচনার পর শেষমেশ টাকা দিতে রাজি হয়। 
ঘটনাটি এখানেই শেষ নয়। ওই সংস্থা যে টাকার চেক দিয়েছিল তা অরুণিমার অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার পর দেখা যায়, সেটি বাউন্স করেছে। তখন পর্যটন সংস্থার উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হয়। ফের এক টেবিলে বসে নতুন করে বৈঠক। এবং দীর্ঘ আলোচনার পর পর্যটন সংস্থা টাকা মিটিয়ে দিতে রাজি হয়। অরুণিমাদেবী এরপর ৫২ হাজার ৫০০ টাকা ফেরত পান। এছাড়া সময় নষ্ট করার জন্য অতিরিক্ত তিন হাজার টাকাও অরুণিমাকে দেয় সংস্থাটি। উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরের কলকাতা সেন্ট্রাল অফিসের সহ অধিকর্তা সুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘অভিযোগকারীর অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছিলাম এবং তিনি যাতে দ্রুত সুরাহা পান সেটি আমরা দেখেছি। বিশেষ করে একজন মহিলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। ৫০ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধানও হয়েছে।’
তবে পর্যটন সংস্থার এই ধরনের কাজ সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারও মৃত্যু হলে বা কেউ অসুস্থ হলে কিংবা পারিবারিক কোনও কারণে অনেক ক্ষেত্রেই ট্যুর বাতিল করতে বাধ্য হন মানুষ। সেক্ষেত্রে সংস্থাগুলির উচিত ঘটনাগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা। অ্যাসোসিয়েশন অফ ট্যুরিজম সার্ভিস প্রোভাইডার অফ বেঙ্গলের সহ সভাপতি সমর ঘোষ বলেন, ‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সকলেরই উচিত বিষয়গুলির উপর নজর দেওয়া। মহিলার স্বামী মারা গিয়েছেন, তাঁর জন্য ব্যবসার ঊর্ধ্বে উঠে সহানুভূতির সঙ্গে পাশে দাঁড়ানো প্রধান কর্তব্য। সেটাই পর্যটন সংস্থার করা উচিত ছিল।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ