সংবাদদাতা, বহরমপুর: সব্জি বাজারে গিয়ে দাম শুনে কেউ এখন মুখ ব্যাজার করে পিছিয়ে আসছেন না। ট্যাঁকের অল্প টাকায় সব্জি বাজারে থলে ভরিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরছেন সকলেই। শুধু রসুন কিনতে গিয়ে হোঁচট খাচ্ছেন মধ্যবিত্তরা। রসুন বাদে বাকি সমস্ত সব্জিই মধ্যবিত্তদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। মাস খানেক আগের অগ্নিমূল্যের বেগুন সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরিয়েছে। এমনকী পাঁচ টাকাতে ভালো সাইজের ফুলকপি কিনতেও অনেকে অনীহা দেখাচ্ছেন। মধ্যবিত্তদের হেঁসেলে শীতকালীন সব্জির ভিড় বাড়লেও সব্জি চাষিদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। পাইকারি বাজারে দু’টাকাতেও বিকোচ্ছে না ফুলকপি। এক টাকায় ফুলকপি বিক্রি না করে বুকে পাথর চাপিয়ে দেড় বিঘা ফুলকপির জমিতে ট্রাক্টর চালিয়ে নষ্ট করে দিয়েছেন হরিহরপাড়ার এক চাষি। চাষির দাবি, ফুলকপি চাষ করে পাকা বাড়ি করেছি। এবার শিক্ষা হল। এরপর আর ফুলকপি চাষ করব না।
Advertisement
ফুলকপির সঙ্গে বাকি সব্জির দামও এখন অনেক কমেছে। মঙ্গলবার বহরমপুর সহ জেলার বিভিন্ন বাজারে বেগুন বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা কেজিতে। টমেটো ৩০ টাকা, শিম ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ২৫ টাকা, গাজর ২০-৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। বাঁধাকপি প্রতি পিস ৮-১০ টাকা, ব্রকোলি ১৫ টাকা পিসে বিক্রি হল। পেঁয়াজ হাফ সেঞ্চুরি থেকে ৩০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। লঙ্কার দামের ঝাঁজে লঙ্কার ব্যবহার কমিয়েছিলেন অনেকে। এখন মাত্র ৫০ টাকা কেজিতে হেঁশেলে লঙ্কা ঢুকছে। সব্জি বিক্রেতাদের দাবি, সব্জির দাম কমার অন্যতম কারণ আলুর দাম পড়েছে। ১৪ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হচ্ছে। বহরমপুরের সব্জি বিক্রেতা বিপুল হাজরা বলেন, আলুর দামের উপর নির্ভর করে বাকি সব্জির দাম ওঠে নামে। আলুর দাম কমলে স্বাভাবিকভাবে সমস্ত সব্জির দাম কমতে শুরু করে। পাশাপাশি এবার শীতকালীন সব্জির উৎপাদনও ভালো। স্বর্ণময়ী বাজারে এসেছিলেন মৃদুলা মণ্ডল। তিনি বলেন, সরকার আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারায় আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা সস্তায় সব্জি কিনতে পারছেন। মনভরে বাজার করছি। শুধু রসুনের দাম ৩০০ টাকা কেজিতেই আটকে রয়েছে। সব্জির দাম সাধারণ মানুষের হেঁশেলে স্বস্তি ফেরালেও চাষিদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে। বড়ঞার সব্জি চাষি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, দু’বিঘা জমিতে কপি চাষ করে আসল টাকায় তুলতে পারিনি। চোদ্দ কাঠা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। বেগুন চাষে প্রচুর খরচা। শুরুতে লাভ হলেও এখন খরচা উঠছে না।



