সংবাদদাতা, আরামবাগ: আজও অবহেলিত বিপ্লবী প্রফুল্লচন্দ্র সেনের স্মৃতি বিজড়িত সাগর কুটির। বার বার হেরিটেজ ঘোষণার দাবি উঠলেও তা মান্যতা পায়নি। তাই পঞ্চায়েতের তরফে ছোট ছোট স্কিম করে সাগর কুটির সাজানো হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। সাগর কুটির বাড়িটি এখনও পুরোপুরিভাবে মেরামত হয়ে ওঠেনি। এতে আশাহত গ্রামের বাসিন্দারা। তাঁরা বলেন, স্বাধীনতার আন্দোলনে আমাদের গ্রামের অবদান থাকলেও সাগর কুটির সেই গুরুত্ব পায়নি সরকারের থেকে। আমরা চাই এই সাগর কুটিরকে হেরিটেজ তকমা দিয়ে সংগ্রহশালায় পরিণত করা হোক।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯২১ সালে বন্যাত্রাণের কাজে এসে স্বাধীনতা সংগ্রামী প্রফুল্লচন্দ্র সেন জায়গাটি নির্বাচন করেন। সাগর কুটিরকে কেন্দ্র করে আরামবাগে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়। প্রফুল্লচন্দ্র সেনের নেতৃত্বে আরামবাগের নারী ও পুরুষ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যদিও এলাকার মানুষ তাঁদের মনে রেখেছেন। প্রফুল্লচন্দ্র সেন, মৃগেনবালা রায়, সুশীলাবালা দাসীকে গ্রামের মহিলাদের আন্দোলনে যুক্ত করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গ্রামের মহিলারা দেশের জন্য লড়াই শুরু করেছিল। গ্রামের মানুষের মুখে মুখে আজও ফেরে বরদামণি হাইত (হাবুর মা), মৃগেনবালা দেবী (কেষ্টর মা), তীর্থনাথ ঘোষের মা, মাখনলাল হাজরার স্ত্রী, লক্ষ্মী জানার মায়েদের নাম। যাঁরা গোয়ালিনি ও মেছুনির ছদ্মবেশে কুটিরে খাবার পৌঁছে দিতেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে বিপ্লবীদের সেবা শুশ্রূষা করতেন। ১৯৩১ সালে জেলার আইন অমান্য আন্দোলনের কেন্দ্র ছিল সাগর কুটির। যে আন্দোলনে হেমালিনী দেবী, এককড়িবালা ঘোষের মতো মহিলারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। ১৯৩১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ সরকার আরামবাগের আইন অমান্য কমিটিকে বেআইনি ঘোষণা করে। পরের দিন সাগর কুটির দখল করে ব্রিটিশ পুলিস।



