সংবাদদাতা, কাটোয়া: মাধ্যমিকে নজরকাড়া ফল করল আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের দুই পড়ুয়া। রাজ্যের মেধা তালিকায় সপ্তমস্থান দখল করেছে আউশগ্রামের জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামের ছাত্র সৌরীন রায়। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৯। অন্যদিকে, মঙ্গলকোটের কাশেমনগরের মেয়ে স্বাগতা সরকার ৬৮৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করেছে। দু’জনেরই স্বপ্ন চিকিৎসক হওয়া। আগামী দিনে তারা সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আউশগ্রাম-২ ব্লকের অমড়াগড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সৌরিন ছোটো থেকেই মেধাবী। বাবা অভিজিৎ রায় স্কুল শিক্ষক। আর মা বর্ণমালা রায় গৃহবধূ। সৌরিন জানায়, সারাদিনে প্রায় ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় পড়াশোনা করত সে। পাশাপাশি নজরুলগীতিও চর্চা করে সে। পছন্দের খেলা ক্রিকেট। সময় পেলেই ব্যাট-বল নিয়ে সময় কাটে। সে বাংলায় পেয়েছে ৯৮ নম্বর, ইংরেজিতে ৯৬, অঙ্কে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ১০০, জীবন বিজ্ঞানে ৯৭, ইতিহাসে ৯৯ আর ভূগোলে ৯৯ নম্বর পেয়েছে। এদিন সে বলে, খুব ভালো লাগছে। বড় হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখি। এই সাফল্যের জন্য প্রাইভেট শিক্ষক ও স্কুলের শিক্ষকদের অবদান অনেক। ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বাবা ও মা। তাঁরা বলেন, ছেলেকে পড়াশোনার জন্য কোনওদিন বলতে হয়নি। আমরা গ্রামে থেকেও যে মেধাতালিকায় স্থান পাব তা ভাবিনি। তবে স্বপ্ন দেখতাম ছেলে একদিন রাজ্যে সুনাম অর্জন করবে।
অন্যদিকে, মঙ্গলকোটের কাশেমনগর বিএনটিপি গার্লস স্কুলের ছাত্রী স্বাগতা সরকার ৬৮৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশমস্থান পেয়েছে। তিনিও কাশেমমগর গ্রামেই থাকে। তার বাবা সুজয়কুমার সরকার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত। আর তার মা সাগরিকা খাঁ সরকার লাখুরিয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। স্বাগতা সারাদিনে পড়াশোনার পাশাপাশি ছবি আঁকে। সেও চিকিৎসক হতে চায়। স্বাগতা বাংলায় ৯৭, ইংরাজিতে ৯৯, অঙ্কে ৯৬, ভৌত বিজ্ঞানে ১০০, জীবন বিজ্ঞানে ৯৮, ইতিহাসে ৯৬ আর ভূগোলে ১০০ নম্বর পেয়েছে। সে বলে, আমি ভালো ফল করব আশা করেছিলাম। তবে মেধাতালিকায় নাম থাকবে ভাবিনি। খুব ভালো লাগছে। এই সাফল্য ধরে রাখার চেষ্টা করব।
স্বাগতার বাবা সুজয়কুমার সরকার বলেন, আমরা গ্রামে থাকি। সন্ধ্যা হলে বিদ্যুতের সমস্যা আছে। প্রত্যন্ত গ্রামে থেকেও যে লড়াই করা যায় তা আমার মেয়ের দৌলতে প্রমাণিত হয়েছে। ও প্রতিদিন স্কুলে যেত। পড়াশোনার পাশাপাশি ওর গান শুনতে ভালো লাগত। এদিন স্বাগতাকে শুভেচ্ছা জানাতে যান মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাগতার এই কৃতিত্ব শুধু পড়ুয়াদের নয়। সমগ্র সমাজের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণা। আগামী দিনে আরও বড় হোক এটাই চাই। মায়ের সঙ্গে দশম স্থানাধিকারী স্বাগতা সরকার।-নিজস্ব চিত্র