


নয়াদিল্লি: পাকিস্তান ও সৌদি আরবের নয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে এই মুহূর্তে তুঙ্গে আলোচনা। ন্যাটোর ধাঁচে দুই দেশের চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও তৃতীয় দেশ পাকিস্তান বা সৌদি আরবের কোনও একটিতে হামলা করলে তা দু’দেশের উপরেই আক্রমণ বলে বিবেচিত হবে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যদি পাকিস্তানের উপর ভারত কোনও আক্রমণ চালায়, তবে কি ইসলামাবাদের পক্ষ নেবে নয়াদিল্লির দীর্ঘদিনের বন্ধু রিয়াধ? শুক্রবার পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খওয়াজা আসিফকে এই প্রশ্ন করেছিল সেদেশের এক সংবাদমাধ্যম। যার উত্তরে আসিফ বলেছেন, ‘অবশ্যই। এতে কোনও সংশয়ই নেই। পাকিস্তান বা সৌদি আরব, যে কোনও দেশের উপরে আগ্রাসনের ঘটনা ঘটলে আমরা একসঙ্গে নিজেদের রক্ষা করব।’ প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই একটি সাক্ষাৎকারে খোয়াজা জানিয়েছিলেন, পাকিস্তানের পরমাণু অস্ত্রসম্ভার ব্যবহার করতে পারবে সৌদি আরব।
পাক-সৌদি এই নতুন চুক্তি নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ইয়ান ব্রিমার। তাঁর মতে, যদি পাকিস্তানি সেনার সঙ্গে ভারতের মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে সৌদি আরবের সেনার সঙ্গেও যুঝতে হতে পারে ভারতকে। ব্রিমার বলেছেন, ‘আগামী দিনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সৌদিকে ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করতে হবে নয়াদিল্লিকে।’ পাশাপাশি এই চুক্তি সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও মনে করছেন ব্রিমার। তিনি বলেন, ‘শুধু আমেরিকার উপর ভরসা করে থাকার বদলে অন্য দেশের সঙ্গে এই ধরনের সামরিক জোট করে নিজেদের শক্তিশালী করে তুলছে সৌদি আরব।’