


রিয়াধ: ইরানকে বাগে আনতে হরমুজ প্রণালীতে অবরোধ শুরু করেছে আমেরিকা। তেহরানের একের পর এক বন্দরকে ঘিরে ফেলেছে মার্কিন নৌবাহিনী। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করল সৌদি আরব। মঙ্গলবার রিয়াধের বার্তা, অবিলম্বে অবরোধ তুলে ফের শান্তি আলোচনায় বসা উচিত আমেরিকার। নাহলে ইরানের দম বন্ধ করতে গিয়ে উলটে নিজেদেরই বিপাকে পড়তে হবে। কারণ বেশিক্ষণ চুপ থাকবে না তেহরান। বদলা নিতে জ্বালানি পরিবহণের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে হামলা চালাতে পারে তেহরান। এতে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। এদিন মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন সূত্রে এমনই জানা গিয়েছে।
সৌদির এই বার্তা ট্রাম্পের কাছে একটা ধাক্কা বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কারণ তাঁর ‘কাণ্ডকারখানা’য় এবার আর পাশে থাকতে চাইছে না সৌদি। তালিকায় রয়েছে কাতারও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের একের পর এক হঠকারি সিদ্ধান্তের জেরে অশান্তি ক্রমে বাড়ছে। কারণ কেউই আর যুদ্ধ চাইছে না। দ্রুত হরমুজের সমস্যা মেটানোর পক্ষেই সওয়াল জোরালো হচ্ছে। সৌদি আরবের আশঙ্কা, ট্রাম্পের ‘জিরো ট্রানজিট’ নীতির বদলা নিতে মুখিয়ে রয়েছে ইরান। এক্ষেত্রে তারা বাব আল-মনদেব প্রণালী বন্ধ করে দিতে পারে। লোহিত সাগরের ‘গেট অব টিয়ার্স’ নামে পরিচিত এই প্রণালী জ্বালানি পরিবহণের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। তা বন্ধ হলে সমস্যা আরও বাড়বে। জ্বালানি সংকট চরমে পৌঁছে যাবে। একই সুর কাতারেরও। সেদেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারির বক্তব্য, ‘হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে কোনোরকম আপোস করা যাবে না। পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার দিকে তাকিয়ে রয়েছি আমরা। যাবতীয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানাচ্ছি।’
সরব চীনও। সেদেশের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুনের বক্তব্য, আমেরিকার এই অবরোধ অত্যন্ত বিপজ্জনক। দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ। এর জেরে উত্তেজনা আরও বাড়বে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি আরও দুর্বল হয়ে যাবে। অশান্তির আবহে ইজরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধিতে রাজি নয় ইতালি। ভেরোনায় এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে এমনই জানিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইতালির এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।