নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেপালের মতোই পাঁচবছর আগে উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে পর্বত থেকে হিমবাহের বিরাট অংশ ভেঙে নীচে পড়ে বড়ো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটিয়েছিল। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সাড়ে ৫ হাজার মিটার উচ্চতার ‘রমিত’ শৃঙ্গের’ হিমবাহ কাণ্ডে যে বিপর্যয় হয়েছিল তাতে দু’শোর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। ঋষিগঙ্গা ও ধৌলিগঙ্গা উপত্যকায় বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ধূলিসাৎ হয়ে যায় দু’টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ওই ঘটনার পর কয়েকজন ভূতত্ত্ববিদ ওই পর্বতের হিমবাহের স্যাটেলাইট থেকে তোলা কয়েকবছর আগের ছবি বিশ্লেষণ করেন। সেখানে দেখা যায়, কয়েকবছর আগে থেকে ওই হিমবাহে নজর দেওয়া হয়নি। নেপালের ঘটনার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবির বিশ্লেষণ করে হিমবাহগুলির পরিস্থিতির উপর নজর রাখা সম্ভব। তাতে এই ধরনের বিপর্যয় ঘটার আগে থেকে পর্যাপ্ত ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। সেই অনুযায়ী আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি কমানো যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্লেসিয়ারের প্রান্তসীমায় থাকা জলাশয় থেকে জলস্ফীতির কারণে সিকিমসহ অনেক জায়গায় বিপর্যয় হয়েছে। এটাকে বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (গ্লফ)। সিকিমের ঘটনার পর এই ধরনের গ্লেসিয়াল লেকের উপর নজরদারি করতে কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশের জন্য দেড়শো কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। কিন্তু নেপালের বিপর্যয়ের পর থেকে সারা বিশ্বের ভূতাত্ত্বিকরা বলতে থাকেন, এটি গ্লফ থেকে হয়নি। এখানে একটি বিশাল হিমবাহ পর্বত থেকে নীচে উপত্যকায় নেমে এসে বিপর্যয় ঘটিয়েছে। ভূতাত্ত্বিক জোস গেফেল এখনো পর্যন্ত পৃথিবীতে এই ধরনের ছয়টি হিমবাহ ভেঙে পড়ে বিপর্যয়ের উল্লেখ করেছেন। ১৯৪১ সালে পেরুতে প্রথম এই ধরনের ঘটনা হয়। তারপর পেরুতে আরও দুবার, রাশিয়া, কানাডা, আমেরিকার আলাস্কা, চামোলি ও শেষ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ল্যাংটাং লিরুং পর্বতে এই ঘটনাটি হল।
ভূতাত্ত্বিক শশাঙ্ক ভূষণ-সহ কয়েকজন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে জানিয়েছেন, চামোলির ঘটনার পর তাঁরা ওই হিমবাহের ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিগুলি বিশ্লেষণ করে দেখেন, সেখানে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ওইসব কারণেই হিমবাহে ধস নেমেছিল।