Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছেলেধরা সন্দেহে সরশুনার প্রৌঢ়াকে হেনস্তা রায়গঞ্জে, বাড়ি ফেরাল পরিবার

ভবঘুরের মতো শহর ঘুরে শেষপর্যন্ত ছেলেধরা সন্দেহে আটক হলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক গৃহবধূ। সবদিক খতিয়ে দেখে কলকাতার সরশুনা এলাকার ৫৮ বছর বয়সী সেই বধূকে পরিবারের কাছে ফেরাল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।

ছেলেধরা সন্দেহে সরশুনার প্রৌঢ়াকে হেনস্তা রায়গঞ্জে, বাড়ি ফেরাল পরিবার
  • ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: ভবঘুরের মতো শহর ঘুরে শেষপর্যন্ত ছেলেধরা সন্দেহে আটক হলেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক গৃহবধূ। সবদিক খতিয়ে দেখে কলকাতার সরশুনা এলাকার ৫৮ বছর বয়সী সেই বধূকে পরিবারের কাছে ফেরাল রায়গঞ্জ থানার পুলিশ। 

Advertisement

শনিবার রাতে ঘটনার সূত্রপাত রায়গঞ্জ শহরের বন্দর বাজার এলাকায়। স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে খবর, একজন প্রৌঢ়াকে ভুল বুঝে ছেলেধরা সন্দেহে আটক করা হয়েছে বলে রায়গঞ্জ থানায় খবর আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ঋষিকেশ রবিদাস নামে এক ব্যক্তি সহ স্থানীয়রা অনেকেই জানান, এলাকায় একটি বাচ্চাকে প্রকাশ্যেই হাত ধরে টানাটানি করছিলেন ওই প্রৌঢ়া। এতেই ছেলেধরা বলে ভুল বুঝে চাঞ্চল্য তৈরি হয় এলাকায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপরই পুলিশ পৌঁছে ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। পুলিশ দেখে, ওই গৃহবধূ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাঁর বাড়ি সরশুনায়। তাঁর স্বামী রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার কর্মী। তাঁর মেয়ের বছর দুয়েক আগে বিয়ে হয়েছে দমদমে। দিন দশেক আগে মার্চেন্ট ক্লাব মাঠের কাছে ওই প্রৌঢ়া এক আত্মীয়ের বাড়িতে এসেছিলেন। কিন্তু সেই আত্মীয় বাড়িতে না থাকায় ওই প্রৌঢ়া আর কলকাতায় ফিরে যাননি। তিনি গত দশ দিন ধরে রায়গঞ্জ স্টেশনেই ভবঘুরের মতো থাকছিলেন। মাঝেমধ্যে তিনি রায়গঞ্জ শহরের রাস্তাঘাটে ঘুরতে বের হচ্ছিলেন। এই অবস্থায় শনিবার রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ ঘোরাঘুরি করতে করতে পৌঁছন বন্দর বাজার এলাকায়। সেখানেই তাঁকে দেখে স্থানীয় কিছু মহিলা ছেলেধরা মনে করেছিলেন। আর তা নিয়েই সাময়িক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। মহিলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হলেও কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। পুলিশ তড়িঘড়ি পৌঁছে বধূকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মহিলা থানায় এনে রাখে। মহিলার বয়ান নিয়ে যোগাযোগ করা হয় পরিবারের সঙ্গেও। শেষপর্যন্ত পুলিশ সবদিক খতিয়ে দেখে জানতে পারে বধূ কোনো কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। সেজন্যই তাঁর এই অসংলগ্ন আচরণ। এরপরই পরিবারের কাছে পুলিশ প্রৌঢ়াকে ফিরিয়ে দেয় বলে খবর।
রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার কুলদীপ সোনাওয়ানে বলেন, ওই মহিলা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তাঁকে ওই ঘটনার পর পুলিশ সুরক্ষিতভাবে  উদ্ধার করে থানায় আনে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন এলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে 
জানান। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ